আইপিওর পাঁচ বছরে মুনাফায় ৫.২ গুণ প্রবৃদ্ধি রবির
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর গত পাঁচ বছরে আর্থিক ও পরিচালন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি। এই সময়ে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক পরিধি তুলনামূলকভাবে সীমিত হারে বাড়লেও খরচ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে নিট মুনাফায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে পুঁজিবাজারে রবির তালিকাভুক্তির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোম্পানিটির আর্থিক অগ্রগতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বছর রবির নিট মুনাফা ছিল ১৮০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ৫ দশমিক ২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সময়ে মোট আয় ৮ হাজার ১৪২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯ হাজার ৯৯২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ১ দশমিক ২ গুণ প্রবৃদ্ধি। পরিচালন মুনাফা ৩ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি।
কোম্পানিটির আর্থিক অগ্রগতির প্রভাব পড়েছে শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্নেও। ২০২১ সালে রবির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩০ পয়সা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১ টাকা ৩০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।
একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ৮০ পয়সা হয়েছে। ডিভিডেন্ড পে-আউট হারও ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রবি জানিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে টেলিকম খাতে যুক্ত হওয়া ৬০ লাখের বেশি নতুন গ্রাহকের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ এককভাবে অর্জন করেছে তারা।
এর ফলে বাজারে রবির গ্রাহক অংশীদারত্ব ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
একই সময়ে টেলিকম শিল্পে মোট ৪ হাজার ৯৩ কোটি টাকার আয় প্রবৃদ্ধির মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে রবির মাধ্যমে। এতে বাজারে কোম্পানিটির আয়ের অংশ ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে রবির বাজার অংশীদারত্ব ছিল ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ। ওই সময়ে প্রতিদিন গড়ে ২৭ হাজার ৭৬৪ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার হয়েছে রবির নেটওয়ার্কে।
২০২৫ সালে একজন রবি গ্রাহক গড়ে প্রতি মাসে ৮ দশমিক ৪ জিবি ডেটা ব্যবহার করেছেন, যেখানে ২০২০ সালের শেষ প্রান্তিকে এ ব্যবহার ছিল ২ দশমিক ৭ জিবি।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত রবির মোট গ্রাহকের ৭৯ শতাংশ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এদের মধ্যে ৯১ শতাংশ ফোরজি ব্যবহারকারী এবং মোট গ্রাহকের ৭২ শতাংশের কাছে স্মার্টফোন রয়েছে।
কোম্পানিটির মোট আয়ের ৪৪ শতাংশ আসছে ডেটা সেবা থেকে এবং মোট রিচার্জের ৫৪ শতাংশ সম্পন্ন হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে।
করপোরেট সুশাসন ও এআই নিয়ে পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, ভবিষ্যতে কোম্পানির ব্যবসায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ভূমিকা আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে আমাদের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিল শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন। গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, সাইবার হুমকি মোকাবিলা এবং নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আমরা শক্তিশালী ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো গড়ে তুলেছি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার রুহুল আমিন এবং চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব আহমাদ।


