শিরোনাম
down of head

অনিশ্চয়তায় ৫১৯ জন কর্মচারী...
অস্থিরতা, তীব্র আতঙ্ক: সিটি ব্যাংক নিয়ে বেসিক ব্যাংকের আপত্তি

শাহাদাত হোসেন :

সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত কে কেন্দ্র করে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে অস্থিরতা ও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।  ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বেসরকারি সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করে, সরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার দাবি জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক বেসরকারি সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।  বিষয়টি নিয়ে গত  ৯ (এপ্রিল) অর্থমন্ত্রীর কাছে এবং ১৬ (এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দপ্তরে সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না হতে আপত্তি জানিয়ে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তারা মনে করেন, বেসিক ব্যাংক শতভাগ রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক। সরকারি ব্যাংক বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অযৌক্তিক।

এদিকে, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক অর্থবাংলাকে বলেন, ‘‘সোনালী ব্যাংক, জনতা, রুপালী,  অগ্রণী, বিডিবিএল ব্যাংকের মতো বেসিক ব্যাংক সরকারি নয়। বেসিক ব্যাংক সরকারের কোনো ব্যাংক অর্ডার দ্বারা স্থাপিত হয়নি। সরকার যেমন কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ড করে, তেমনি বেসিকেরও শেয়ার হোল্ড করে। অন্য ব্যাংকের সঙ্গে বেসিকের পার্থক্য হচ্ছে সরকার যেটা রাজস্ব থেকে দেয় সেটাই সরকারি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে সরকারের বাণিজ্যিক কাজের জন্য প্রতিষ্ঠিত, বেসিক ব্যাংকও তেমন একটি প্রতিষ্ঠান। ‘’

বেসিক ব্যাংক জনসংযোগ প্রধান মোহাম্মদ ইশতিয়াক আজাদ বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সরকারের গেজেট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রের মাধ্যমে বেসিক ব্যাংককে শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের রায়ে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরকারি কর্মচারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।‘‘

তিনি আরো বলেন, ‘‘বর্তমানে দেশে রাষ্ট্র মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংকের মতো বেসিক ব্যাংক একই বিধিমালা ও নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।  সোনালী ব্যাংক, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বিডিবিএল ব্যাংকের মতো বেসিক ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামোও অভিন্ন। অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদনে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের তালিকায় বেসিক ব্যাংকের নাম রয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তালিকায় বেসিক ব্যাংকের নাম রয়েছে।’’

দুই ব্যাংকের একীভূত হওয়া প্রসঙ্গে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা অর্থবাংলাকে বলেন, ব্যাংকটির আমানতের বড় অংশ এসেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে। যখন বলা হলো এটি সরকারি ব্যাংক নয় এবং বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হবে, তখন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এবং আমানতকারীরা আমানত সরিয়ে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত  ব্যাংক থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নেওয়া হয়েছে।

বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী গভর্নরের দপ্তরে পাঠানো স্মারক লিপিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে  ব্যাংকারস সিলেকশন কমিটি সরকারী ব্যাংকসমূহে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে থাকে। এই তালিকায় বেসিক ব্যাংকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও কমিটির মাধ্যমে বেসিক ব্যাংকে নিয়োগ করা কর্মকর্তাগণ এখনো এই ব্যাংকে কর্মরত আছেন। এই কর্মকর্তাদের সরকারী খাতের চাকুরী বেসরকারী খাতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা হবে তাদের জন্য এক অপ্রত্যাশিত আঘাত।

স্মারক লিপিতে আরো বলা হয়, সরকারী ব্যাংকসমূহের নির্বাহীদের পদোন্নতি ও পদায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এর দু’টি “পুল” রয়েছে।  উপ-মহাব্যবস্থাপক “পুল” ও মহাব্যবস্থাপক “পুল”। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক একীভূতকরণ নীতিমালায় মন্ত্রণালয়ের পুলভুক্ত বেসিক ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও মহাব্যবস্থাপকদেরকে (যাদের ‘সার্ভিস বেনিফিট’ বেসিক ব্যাংক থেকে দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে) সরকারী ব্যাংকসমূহে পদায়নের বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই।

অর্থ মন্ত্রণালয় পাঠানো স্মারক  লিপিতে উল্লেখ করা হয়, বেসিক ব্যাংকের সাফল্যে আমরা অনেকে পুরনো ব্যাংক ছেড়ে বেসিক ব্যাংকে যোগদান করি। ব্যাংকের আর্থিক দুর্দশা সত্বেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর পেমেন্ট পরিশোধসহ বিভিন্ন সময় দেশব্যাপী সরকারের উন্নয়ন কাজের সহযোগী হয়েছি। বেতন-ভাতার ক্ষতিও তো আমরা মেনে নিয়েছিলাম ব্যাংকের স্বার্থে শুধুমাত্র জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে।

স্মারক  লিপিতে অর্থ মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য  করে বলেন, সরকারী খাতের বেসিক ব্যাংককে বেসরকারী খাতের একটি ব্যাংকের সাথে একীভূতকরণের সংবাদে আমরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। দেশের আর্থিক খাতের শৃংখলা ফিরিয়ে আনা ও আর্থিক খাতকে প্রভূত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় ব্যাংক একীভূতকরণের সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। সেক্ষেত্রে বেসিক ব্যাংককে মূল ধারার অপর একটি সরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে একীভূত করা হলে সকল বিবেচনায় তা হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে আমাদের সকল কর্মীর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাও দূর হবে।

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্ভণরের কাছে পাঠানো স্মারক লিপিতে দাবী করা হয়, বেসরকারী সিটি ব্যাংকের পলিসি অনুযায়ী বেসিক ব্যাংকের ড্রাইভার, আর্মড গার্ড, গার্ড-কাম-মেসেঞ্জারসহ ৫১৯ জন কর্মচারীর পদায়নের সুযোগ খুবই সীমিত, যা কর্মচারীগণের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা ও তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।  তাই, সরকারী খাতের বেসিক ব্যাংককে এখন সিটি ব্যাংকে নয়, বরং সরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে একীভূত করার দাবী জানান তারা।

সম্পর্কিত খবর