প্রধানমন্ত্রী আজ পরমাণু চুল্লিপাত্র স্থাপনের কাজ উদ্বোধন করবেন

পাবনার রূপপুর ইউনিয়নে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র বসছে আজ। সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়ন হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, এ ঘটনা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফলে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যাবে।

প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত গোলাকৃতি অবকাঠামো দুটি রিঅ্যাক্টর ভবন। এর একটিতে বসানো হবে রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মূল অংশ এটি। এ ভবনের বিভিন্ন ধাপে বসানো হয়েছে নিউক্লিয়ার যন্ত্রপাতি। পাঁচ ধরনের যন্ত্রের মধ্যে এরই মধ্যে প্রেসারাইজার, কুল্যান্ট পাম্প এবং হাইড্রো অ্যাকিউমুলেটর বসানো সম্পন্ন হয়েছে। রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের পর পরই আগামী নভেম্বরে স্থাপন করা হবে স্টিম জেনারেটর।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর বলেন, ইউনিট-১-এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের পারমাণবিক যন্ত্রাংশ স্থাপন সম্পন্ন হবে। ফলে এ ইউনিটের রিঅ্যাক্টর ভবনের ভেতরের কাজ প্রায় শেষ হবে।

শৌকত আকবর জানান, করোনার মধ্যে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চলেছে রূপপুরে। বন্ধ থাকেনি একদিনের জন্যও। ওই সময়ে কিছুটা গতি কমলেও নতুন বাস্তবতায় লোকবল বাড়িয়ে এগিয়ে চলছে প্রকল্প। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

স্টিম জেনারেটরের মাধ্যমে প্রথম ইউনিটে সব ধরনের নিউক্লিয়ার যন্ত্রপাতি বসানো শেষ হবে। প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর বলেন, প্রতিটি যন্ত্র সর্বোচ্চ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে নকশা অনুযায়ী বসানো হচ্ছে। এজন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সনদ নিতে হয়েছে। কাজের মান দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছরের মধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হবে রূপপুরে। ইউনিট-২-এর কাজও চলছে জোরেশোরে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিভিন্ন প্রস্তুতি পর্ব শেষে প্রথমত ভৌত অবকাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর সেসব অবকাঠামোর মধ্যে পারমাণবিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়।

ভৌত কাঠামো নির্মাণের পর খুব দ্রুতগতিতে চলে যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ। ভৌত কাঠামো নির্মাণ গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করা হচ্ছে রাশিয়ায়। এরই মধ্যে প্রথম ইউনিট তো বটেই দ্বিতীয় ইউনিটেরও প্রায় সব যন্ত্র প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে।

রূপপুর প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায়। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নব্বই ভাগ অর্থ ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া। আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে রুশ ঠিকাদার অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট। নির্মাণের পাশাপাশি এটি পরিচালনার জন্য জনবলও তৈরি করে দিচ্ছে রাশিয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩-এ প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট ও একই পরিমাণ বিদ্যুৎ দ্বিতীয় ইউনিট থেকে পাওয়া যাবে ২০২৫ সালে।

চুল্লি স্থাপনের আগে রুশ পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচেভ বলেন, বিজ্ঞান নিয়ে বছরের পর বছর রাশিয়া যে উত্কর্ষ অর্জন করেছে, সেই অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান রূপপুরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কিছু ব্যবস্থাপনা রূপপুর প্রকল্পকে করেছে সবচেয়ে নিরাপদ।