সিকদার ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ও সিইওসহ ১১ জনকে জরিমানা
সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৯ পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং কোম্পানি সচিবকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ নির্ধারিত খাতে ও সময়ে ব্যবহার না করা এবং অনুমোদন ছাড়া অর্থের খাত পরিবর্তনের ঘটনায় তাঁদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।
বিএসইসি এক আদেশে জানায়, আইপিও শর্ত লঙ্ঘন করায় কোম্পানির চেয়ারম্যান নাসিম সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান মামতাজুল হক সিকদার, পরিচালক লিসা ফাতেমা হক সিকদারসহ নয়জন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শেখ আবদুর রফিক এবং কোম্পানি সচিব আবদুর রাজ্জাককে জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিএসইসিতে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়।
বিএসইসি জানায়, সিকাদার ইন্স্যুরেন্স আইপিও ব্যয়ের খাত থেকে ২০ লাখ টাকা সরিয়ে এফডিআরে বিনিয়োগ করে। আবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ অর্থের ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা নির্ধারিত সময়ে বিনিয়োগ করা হয়নি। ফ্লোর কেনার জন্য বরাদ্দ ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকাও নির্ধারিত সময়ে ব্যবহার করা হয়নি।
সিকদার ইন্স্যুরেন্স আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর কোম্পানিটিকে আইপিওর সম্মতিপত্র দেওয়া হয়। ওই বছরের ২১ থেকে ২৮ ডিসেম্বর সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন হয়। পরে ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি উত্তোলিত পুরো অর্থ ন্যাশনাল ব্যাংকের এসক্রো হিসাবে জমা করা হয়।
প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ১৬ কোটি টাকার মধ্যে ৪ কোটি টাকা এফডিআর, ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা ফ্লোর ক্রয় এবং ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকা আইপিও ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। এসব অর্থ তিন মাসের মধ্যে ব্যবহারের কথা ছিল।
তদন্তে বিএসইসি দেখতে পায়, এফডিআরের জন্য বরাদ্দ ৪ কোটি টাকার পরিবর্তে কোম্পানিটি ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। কোম্পানির দাবি, আইপিও ব্যয়ের খাত থেকে ২০ লাখ টাকা স্থানান্তর করে এই অতিরিক্ত অর্থ এফডিআরে বিনিয়োগ করা হয়। তবে খাত পরিবর্তনের আগে শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৫১ শতাংশের অনুমোদন নেওয়ার শর্ত থাকলেও তা নেওয়া হয়নি।
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। অব্যবহৃত থাকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কোম্পানির ব্যাখ্যা ছিল, ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্যসংকটের কারণে দুটি চেক ফেরত যায় এবং ৪০ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার আটকে থাকায় নির্ধারিত বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি।
ফ্লোর কেনার জন্য বরাদ্দ ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকার কোনো অর্থই নির্ধারিত সময়ে ব্যবহার করা হয়নি। পরে কোম্পানির পর্ষদ ওই অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলসে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। তবে তদন্তকালীন সময়ে নির্ধারিত কাজে অর্থ ব্যবহার না করাকে আইপিওর শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে বিএসইসি।
আইপিও ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকার মধ্যে ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। বাকি ২১ লাখ ২৮ হাজার টাকা অব্যবহৃত ছিল। এর মধ্যে ২১ লাখ টাকা এফডিআরে বিনিয়োগ করা হলেও এ ক্ষেত্রেও আগাম অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
এসব বিষয়ে ২০২৬ সালের ৮ জুন বিএসইসির শুনানিতে কোম্পানির কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা দেন। তবে কমিশন তা গ্রহণ করেনি। আইপিও তহবিল ব্যবহারের শর্ত না মানাকে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে কমিশন জরিমানার আদেশ দেয়।



