down of head

ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধি নিয়ে বিএসইসির বৈঠক

দেশি-বিদেশি লাভজনক ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মো. মাসুদ খান। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্তি বা ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধিমালার আওতায় ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আইপিওর মাধ্যমে নতুন শেয়ার ইস্যুর পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান শেয়ারের একটি অংশ বিক্রির সুযোগ রেখে হাইব্রিড পদ্ধতির বিধিমালা প্রণয়নের বিষয়টিও কমিশন বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিএসইসির সম্মেলন কক্ষে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ‘সরাসরি তালিকাভুক্তি বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ খান সভাপতিত্ব করেন। এতে বিএসইসির কমিশনাররা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), বিভিন্ন তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু ম্যানেজার, পেশাজীবী সংগঠন এবং পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় খসড়া ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ‘শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধিমালা, ২০২৬’-এর ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। প্রেজেন্টেশনে প্রস্তাবিত বিধিমালার আওতায় সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির জন্য যোগ্য কোম্পানি, আবেদন ও তালিকাভুক্তির শর্ত, মূল্য নির্ধারণ বা প্রাইস ডিসকভারি প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

সভায় অংশ নেওয়া অংশীজনরা খসড়া বিধিমালার বিভিন্ন ধারা ও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিষয়ে নিজেদের মতামত, পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ও সক্ষম কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে যুক্ত করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও বাজারের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত দেওয়া হয়।

সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ খান বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়। এ অবস্থায় ভালো ও স্বনামধন্য ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিগুলোকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যুক্ত করে বাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়াতে চায় কমিশন। এর ফলে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের পথ সুগম হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে একটি কোম্পানির সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী করপোরেট ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এ ছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বিভিন্ন কর-সুবিধা, কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধি এবং শেয়ারের তারল্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। এতে কোম্পানির উত্তরসূরিরাও তাদের শেয়ার লিকুইড করার সুযোগ পান। ভবিষ্যতে কোম্পানির সম্প্রসারণে অতিরিক্ত পুঁজির জোগান পেতেও তালিকাভুক্তি সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের পাশাপাশি কমিশন আইপিও বিধিমালাকেও আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো যাতে একই সঙ্গে বিদ্যমান শেয়ার অফলোড এবং নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অর্থাৎ হাইব্রিড পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে ভালো ও যোগ্য কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।

সভায় ইউনিলিভার, মেটলাইফ, নেসলে বাংলাদেশ, বাংলালিংক, কাফকো, বিকাশ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এসেনশিয়াল ড্রাগস, সিনোভিয়া ফার্মাসিউটিক্যালস, নগদ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, ইউনিক গ্রুপ, কাজী ফার্মস গ্রুপ, কনফিডেন্স গ্রুপ, এসিআই, ওয়ালটন, আকিজ রিসোর্সেস, ন্যাশনাল পলিমারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রতিনিধিদের কেউ কেউ ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে এবং কেউ একই সঙ্গে শেয়ার অফলোড ও আইপিওর মাধ্যমে অর্থাৎ হাইব্রিড পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয়ে বিএসইসির উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এ বিষয়ে কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও মতামত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সম্পর্কিত খবর