সম্পদ বিক্রি করে ফারইস্ট লাইফের ৫২৩ গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধ
সম্পদ বিক্রি করে ৫২৩ জন গ্রাহককে মোট ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। বিমা গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অপরিশোধিত দাবি পরিশোধের কার্যক্রম শুরু করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এরই অংশ হিসেবে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৫২৩ জন গ্রাহককে মোট ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবির আংশিক নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সিকিউরিটি বন্ড নগদায়নের মাধ্যমে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হয়। পরে ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) পদ্ধতিতে সরাসরি গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে দাবি পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
তবে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সব বকেয়া দাবি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অবশিষ্ট দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে পরিশোধের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব দাবি নিষ্পত্তির জন্য কোম্পানির অন্যান্য সম্পদ বিক্রিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন বিভিন্ন বিমা কোম্পানির গ্রাহকদের দাবি অপরিশোধিত থাকায় বিমা খাতে গ্রাহকদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বকেয়া দাবি পরিশোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে আইডিআরএ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিমা গ্রাহকদের ন্যায্য দাবি পরিশোধ নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দাবি পরিশোধের মাধ্যমে সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় আগামী মাসে আরও সাতটি বিমা কোম্পানির দীর্ঘদিনের অপরিশোধিত দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইডিআরএ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে এসব কোম্পানির গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধ করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা, বিমা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট কাটিয়ে জনআস্থা পুনরুদ্ধারে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



