ব্যাংক কর্মকর্তাদের ইন্স্যুরেন্স কমিশনে সতর্ক করলো বিএফআইইউ

ঋণ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বীমা কভারেজ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অবৈধ কমিশন প্রদান বন্ধে বীমা কোম্পানিগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বিএফআইইউর যুগ্ম পরিচালক রাজিব হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়েছে, ঋণ এবং এলসির মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বীমা কভারেজ গ্রহণ করে, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা বা ট্রেড ডিভিশনের কর্মকর্তাদের বীমা কোম্পানিগুলো প্রাপ্ত প্রিমিয়ামের একটি বড় অংশ কমিশন হিসেবে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

বিএফআইইউর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ ধরনের অবৈধ কমিশন প্রদানের ফলে বীমা কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। এর ফলে সরকারও কর ও অন্যান্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ৭-৯ মে অনুষ্ঠিত ব্যাংকগুলোর প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাদের সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সেখানে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে অবৈধ কমিশন দাবি ও গ্রহণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউ আরও উল্লেখ করেছে, দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত)-এর ২(শ) ধারা অনুযায়ী একটি সম্পৃক্ত অপরাধ ।

এ প্রেক্ষাপটে আইডিআরএকে দেশের সব বীমা কোম্পানিকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে তারা ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বীমা কভারেজের বিপরীতে কোনো অবৈধ কমিশন বা সুবিধা প্রদান না করে।

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিগুলো এ নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কি না, তা বিএফআইইউর পরিদর্শন কার্যক্রমের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে করপোরেট বীমা, বিশেষ করে মেরিন, অগ্নি ও আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট বীমা ব্যবসায় কমিশনভিত্তিক অনৈতিক প্রতিযোগিতা চলমান রয়েছে। বিএফআইইউর এই পদক্ষেপ বীমা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব সুরক্ষা এবং মানিলন্ডারিং ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পর্কিত খবর