গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা আমানত ভঙ্গ করছে রুপালী লাইফ

 

জিনান মাহমুদ :

১২ লাখ বীমা গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা আমানত ভঙ্গ করছে রুপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।  আইন লংঘন, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং অনৈতিক পন্থায় সুক্ষ্মভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেন- আত্মগোপনে থাকা আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মিতা এবং আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য সিইও মো: গোলাম কিবরিয়া সিন্ডিকেট।

নামে-বেনামে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ, বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ও বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন মিতা-কিবরিয়া সিন্ডিকেট। জালিয়াতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে- অর্থ উপদেষ্টা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগ করেছেন রুপালী লাইফের নিরীক্ষা বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার মো: জহিরুল ইসলাম।

অভিযোগে মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০০০ সালে যোগদান করে এজিএম থেকে নিয়ম ভঙ্গ করে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি নিয়ে ২০১৪ সালে সিইও হন গোলাম কিবরিয়া। চাকরী শুরুর পর থেকে কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরী করেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোম্পানীর উন্নয়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে বছর শেষে বন্টনহীন বিভিন্ন ধরনের কমিশন বিল, ইনসেনটিভ বিল, বেতন ভাতা ও কমিশনের নিরানব্বইন হাজার তিনশত উনআশি আত্মসাৎ করা হয়।  যার নগদায়নের ভাউচার নং ২৪-পিসিভি- টি-৫৫৩ তারিখ ১৩-০৫-২০২৪ এবং কমিশন বিভাগের বিল নং-৫৮/২৪ তারিখ-২৮-০৪-২০২৪।

এ ক্ষেত্রে কমিশন সংক্রান্ত বিল সংশ্লিষ্ঠ উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধের নিয়ম থাকলেও এই ক্ষেত্রে সে নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে। এখাতে বছরের পর বছর নামে বেনামে নানা জালিয়াতির মাধ্যমে কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা কমিশন বিল আত্মসাৎ করেন এভিপি ও রিনিওয়াল বিভাগের ইনচার্জ মোঃ আকতার হোসেন এবং ডিভিপি ও সাবেক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আত্মসাৎ করেন। আর এই অবৈধ বিল পেতে তাকে সিইও গোলাম কিবরিয়া প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন।

এছাড়া ভুয়া মেডিকেল বিল দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয় রুপালী লাইফে। কোম্পানীর ইভিপি ও অবলিখন বিভাগের বিভাগীয় ইনচার্জ মো: আব্দুল্লাহ’র তত্ত্বাবধানে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২০-২২ হাজার টাকার ভূয়া মেডিকেল বিল ভাউচার তৈরী করে সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে বিল দাখিল করে। এই বিল অনুমোদন দেন কোম্পানীর সিএফও।  বছরে পর বছর এইভাবে ভুয়া মেডিকেল বিল ভাউচার তৈরী করে আত্মসাৎ করে আসছে। এই বিষয়ে সাবেক সিএফও, বর্তমান সিএফ ও বর্তমান অডিট ইনচার্জ কে জিজ্ঞেস করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। তাছাড়া ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত করে বীমা গ্রহণের ফলে উক্ত বীমা গ্রাহকগণের মৃত্যুতে, মৃত্যু দাবির ক্ষেত্রে বছরের পর বছর মৃত্যু দাবি থেকে বীমা গ্রাহকরা বঞ্চিত ও প্রতারিত হয়ে আসছে।

 অভিযোগ অস্বীকার করে রুপালী লাইফের সিইও মো: গোলাম কিবরিয়া অর্থবাংলাকে বলেন, এসব তথ্য সত্য নয় একটি মহল মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।

– আইন লংঘন, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির ষোল কলা পূর্ণ করেছে রুপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।  প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান-সিইও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভুয়া ব্যবসা, ভুয়া কমিশন, তহবিল তছরুপ, ডামি কোড সৃষ্টি ও লুটপাটের চিত্র নিয়ে থাকবে ধারাবাহিক প্রতিবেদন।

দ্বিতীয় পর্বে থাকছে- মৃত মানুষকেও ছাড়েনি রুপালী লাইফ !

সম্পর্কিত খবর