নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ব্যাটারি চালিত রিক্সাগুলো

এস এম ফরহাদ আহমেদ :

নাই কোনও লাইসেন্স এবং ফিটনেস। চার্জ দেওয়া হয় রাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে। অর্থাৎ অবৈধ ভাবে ব্যাটারিতে চার্জিং করা হয় এমন রিক্সাগুলোতে। তারমধ্যে বহু লোক শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী। যারা স্বাভাবিক ভাবে চলা ফেরা করতে পারেন না তারাও ড্রইভার। বহু চালক রয়েছে যাদের বয়স ১৫ বা ১৬ বছরের কাছাকাছি । গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং উভয়ের ফিটনেস কতটুকু রয়েছে তা নিয়ে ও বহু প্রশ্ন রয়েছে। টোকেন দেখিয়ে অনেককে দেখেছি রাস্তায় এমন বাহনগুলো চালাচ্ছে মাসহারা ভিত্তিতে। এই দ্রুত গতির পরিবহনটি মুলত অসাধু রাজনৈতিক নেতা আর আমলাদের প্রভাবে অবৈধ ভাবে রাস্তায় চলাচল করছে। এটা অন্তত পরিস্কার সকলের কাছে। এটা নিষিদ্ধ করার আগে নিষিদ্ধ করতে হবে আমদানি এবং রপ্তানিকারকদের। সময় দিয়ে এবং তাদেরকে নিদিষ্ট রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দিলে কারই ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। হবে না রাস্তাঘাটে আন্দোলন। জনবান্ধন না হলেও স্বার্থ বান্ধব যে-কোন সিদ্ধান্ত নিতে হয় সময় দিয়ে এবং নিয়ে। যাতে করে এতো লক্ষ লোক বেকার হবে। পরিবার পথে বসবে এমন অযুহাত প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে। বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করেও আইনের বাস্তবায়ন করা যায়। নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি সবার বেঁচে থাকার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি করে যৌক্তিক আন্দোলন করারও অধিকার রয়েছে। কাউকে অসম্মানিত বা কোনও গোষ্ঠীর ক্ষতি করে সু শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। স্বৈরাচার এর পতনের পর কোনও একটা দিন বাকি নেই যে, রাস্তায় আন্দোলন হয়নি। কেনো এমন পরিস্থিতির মধ্যে নগরবাসীকে জীবন যাপন করতে হবে। আবার নগরবাসী হিসেবে আমাদেরও বা কি দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। শুধু রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণীর লোকগুলোই এমন সমস্যার সমাধানে থাকবে, নাকি সাধারন জনগনের মতাতমেরও প্রয়োজন রয়েছে? ছাত্রদের যেমন প্রতিনিধিত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যুগোপযোগী করেছে, তেমনি সিস্টেমের উন্নয়ন এবং তার পরিবর্তন পরিবর্ধন এর জন্যে ও জনমতের প্রয়োজন। তাহলেই একটা সময় জনগনেই তার ভালো মন্দ নির্ধারণ এবং প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগ্রহ পাবে। তিন চাকার ব্যাটারি চালিত রিক্সাগুলো হাইওয়ে থেকে শুরু করে সকল রাস্তায় দেখা যায়। এটা অত্যান্ত দুঃখজনক এবং অসংমানের। এগুলো দেখা ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব, পাশাপাশি জনসচেতনতার ও প্রয়োজন। আমার মত যারা বাইক নিয়ে ঢাকার পথে অফিস করে তারা বুঝতে পারে এই যানবাহনগুলো কতটা ভয়ংকর হতে পারে। কয়দিন আগে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এ অটোরিকশার কারনে। আমি নিজেও আহত হয়েছি গত এক বছর আগে। আমি বলছিনা এক্ষেত্রে শুধু অটোরিকশার চালকের দোষ। এখানে আমাদের ট্রাফিক সিস্টেম এর ও সমস্যা রয়েছে । এখানে সরাসরি ভাবে জড়িজ চাদাবাজ গোষ্ঠি। একজন বয়স্ক মানুষ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী লোকগুলোর হাতে কেনো এমন যানবাহন তুলে দিতে হবে? এটা সম্পুর্ন একটা অপ কৌশল নয় কি? কারন অন্যায় হলেও সাধারন মানুষ এবং ভুক্তভোগী যেনো তার বয়স এবং শারীরিক পজিশন দেখে প্রতিবাদ করতে না পারে। আর এভাবেই দিব্যি প্রশাসনের নাকের ঢকার উপর দিয়ে বছরের পর বছর রাস্তা দখল করে চলছে যান গুলো। এটা সম্পুর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত, যেহেতু আমি নিজে ভুক্তভোগী। সময়ের পরিক্রমায় নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার পরও আমরা এমন সাধারন সমস্যাগুলো কেনো জিয়ে রেখেছি? রাজনৈতিক মহলের কি কোনও দায়দায়িত্ব নেই? তারা কি পারেনা সরকারের পাশাপাশি এমন সমস্যাগুলো নিরসনে এগিয়ে আসতে। বস্তুত আমরা সবাই হালুয়া রুটির ভাগাভাগি ছাড়তে নারাজ! দেশ জাহান্নামে চলে যাক তাতে কারও কিছু যায় আসে না। নতুন সুর্য নতুন উদ্যোম আমরা মলিন হতে দিবোনা, এমন ওয়াদা হোক আমাদের প্রতিটি মানুষের। রাষ্ট্রটি আমাদের সবার। এটা কোন গোষ্ঠী দখল করে রাখবে এটা আমরা কেউ চাই না। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, বহু সময় আপনারা ও দুর্ঘটনায় আপনাদের অঙ্গ হারান, মৃত্যু ও হয় বহু সময়। বৃহৎ স্বার্থে আপনার সাময়িক ক্ষতি হলেও রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে মেনে নিন। আপনার সন্তানটি যেনো একদিন রাষ্ট্রের দায়িত্ব আসে সেই জন্য তাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। যেমন ভাবে আগষ্টে সবাই এগিয়ে এসেছিলো দেশকে স্বৈরাচারের দখল থেকে রক্ষা করতে। বিকল্প পেশায় আমরা সবাই যেতে পারি কিন্তু মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরার কোনও বিকল্প পথ নেই।

লেখক  : এস এম ফরহাদ আহমেদ

রিচালক এবং প্রযোজক

সম্পর্কিত খবর