রেকিট বেনকিজারের নিট মুনাফা কমেছে ৩৪ শতাংশ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এফএমসিজি খাতের বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ লিমিটেডের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা চলতি ২০২২ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কমে গেছে। মূলত কোম্পানিটির প্রধান কাঁচামাল সোপ নুডলসের অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধির কারণেই প্রথম প্রান্তিকে নিট মুনাফা কমেছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।
রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১২৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ৬৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে উৎপাদন খাতে ব্যয় ছিল ৫৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে কোম্পানিটির ব্যয় বেড়েছে ১৩ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বা ৩৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৯ টাকা ২৫ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ২৯ টাকা ২৫ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২২ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১৯ টাকা ৯০ পয়সা।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ হাজার ৬৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এফএমসিজি খাতের বহুজাতিক কোম্পানিটি। সমাপ্ত হিসাব বছরে রেকিট রেনকিজার বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ১৭১ টাকা ৩ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে ছিল ১৫৬ টাকা ৩৮ পয়সা।
এর আগের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১ হাজার ৪০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর আগের বছর কোম্পানিটি ১ হাজার ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। তার আগে ২০১৮ সালে ৭০০ শতাংশ নগদ, ২০১৭ সালে ৭৯০ শতাংশ নগদ, ২০১৬ সালে ৭৭৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৫ সালে ৬৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
রেকিট বেনকিজারের প্রধান দুটি ব্র্যান্ড হচ্ছে ডেটল ও হারপিক। পাশাপাশি লাইজল ব্র্যান্ডের পণ্যও রয়েছে কোম্পানিটির। বাজারে ডেটল ব্র্যান্ডের সাবান, লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ, লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রয়েছে। আর লাইজল ব্র্যান্ডের লিকুইড ক্লিনার ফ্লোর জীবাণুমুক্ত করার কাজে ব্যবহূত হয়।
১৯৮৭ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৫ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৭ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে ৮২ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ারই রয়েছে মূল কোম্পানি যুক্তরাজ্যভিত্তিক রেকিট বেনকিজার পিএলসির কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৩৩, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক ৯১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার রেকিট বেনকিজার শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৪ হাজার ৮৭১ টাকা ৩০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৪ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ৬ হাজার ২২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।


