ইউক্রেনিয়ান ভুট্টার দাম কমেছে

ইউক্রেনিয়ান ভুট্টার রফতানি মূল্য কমেছে। কারণ দেশটিতে শস্যটির মজুদ বেড়েছে। পাশাপাশি পণ্যটির চাহিদাও কম। কৃষিপণ্যের বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এপিকে-ইনফর্ম সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া হামলা চালানোর পর থেকে ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে দেশটি পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত ব্যবহার করে একমাত্র ট্রেনের মাধ্যমেই রফতানি করতে পারছে।

বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য সরবরাহকারী দেশগুলোর অন্যতম একটি ইউক্রেন। কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো দিয়েই ইউক্রেন তাদের সব ধরনের কৃষিপণ্য রফতানি করত। কিন্তু এসব অঞ্চলেই যুদ্ধের দাবানল সবচেয়ে বেশি। ফলে আমদানিকারক দেশগুলো ভুট্টার সরবরাহ নিশ্চিতে প্রতিনিয়তই হিমশিম খাচ্ছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবেদনে জানায়, ইউক্রেনে রফতানি বন্ধ থাকায় ভুট্টার বড় পরিসরে উদ্বৃত্ত হয়েছে। অন্যদিকে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের ব্যাপকতা বাজারকে নিম্নমুখী চাপের মধ্যে ফেলছে।

এপিকে ইনফর্ম বলছে, পলিশ সীমান্তে এপ্রিল-মে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন ভুট্টার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৪০-২৫০ ডলারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানের প্রতি টনে ১৫ ডলার করে কমেছে। স্লোভাকিয়া সীমান্তে ভুট্টার দাম কমে টনপ্রতি ২৪৫-২৬০ ডলারে নেমেছে।

অন্যদিকে রোমানিয়ান বন্দর কনস্টান্টায় সরবরাহের জন্য প্রতি টন ভুট্টার দাম ৩০০-৩১৫ ডলারে স্থির হয়েছে।

ইউক্রেনের সরকারি তথ্যানুযায়ী, মার্চের শেষ নাগাদ দেশটিতে ভুট্টার মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টনে। এ মাসে শুধু তিন লাখ টন ভুট্টা রফতানি করা হয়েছে।

ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি সক্ষমতা দিন দিন কমছে। যদি রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা করে, তবেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের নতুন কৃষিমন্ত্রী মিকোলা সলস্কি।

স্থানীয় টেলিভিশনে ব্রিফিংকালে মন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী দেশ। প্রতি মাসেই দেশটি সাধারণত ৪০-৫০ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করে। সম্প্রতি রফতানির পরিমাণ মাত্র কয়েকশ হাজার টনে নেমে গিয়েছে। তিনি আরো বলেন, খাদ্যশস্য রফতানিতে নেমে আসা বিপর্যয় বিশ্ববাজারে নাটকীয়ভাবে বড় পরিসরে প্রভাব ফেলেছে। এ প্রভাব একেবারেই প্রত্যক্ষ। যত দিন যাচ্ছে, পরিস্থিতির তত অবনতি হচ্ছে।

চলতি মৌসুমের জন্য ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি পূর্বাভাস কমিয়েছে কৃষিপণ্যের বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এপিকে-ইনফর্ম। মৌসুম শেষে রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ কোটি ৪০ লাখ টনে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম। এছাড়া ২০২০-২১ মৌসুমের তুলনায় রফতানি কমতে পারে ৩ শতাংশ।

এ বছরের জুলাইয়ে ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুম শুরু হয়ে আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। এ মৌসুমে দেশটির খাদ্যশস্য রফতানি ৩২ শতাংশ কমতে পারে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় তিন কোটি টনে। এর মধ্যে এক কোটি টন গম ও ১ কোটি ৯০ লাখ টন ভুট্টা রফতানি করা হবে।

২০২১-২২ মৌসুমের শুরু থেকে রুশ আক্রমণ পর্যন্ত সাত মাস অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেন ৮০ শতাংশ গম ও ৮৯ শতাংশ যব রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে। ভুট্টার ক্ষেত্রে মৌসুমের পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে শস্যটি ৫৩ শতাংশ রফতানি করা হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর