‘টিউলিপ’ নামের কারণে কম্পিউটার আনেননি খালেদা!

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারণে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া পিছিয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কম্পিউটার কেনার জন্য ১৯৯৬ সালে নেদারল্যান্ড সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। টাকাও দেওয়া হয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগের পাঁচ বছর সময় শেষ হয়ে যায়। আমরা ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করি।

তিনি আরও বলেন, নেদারল্যান্ডের জাতীয় ফুল টিউলিপ। খালেদা জিয়াকে বুঝানো হলো— যে কোম্পানি থেকে কম্পিউটার কেনা হবে সে কোম্পানির নাম টিউলিপ। শেখ রেহানার মেয়ের নামও টিউলিপ। এটা নিয়ে হলো বিভ্রান্তি। ওদের কাছ থেকে কম্পিউটার নেওয়া যাবে না। তাই কম্পিউটার নেওয়া হলো না। পরে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করল টিউলিপ কোম্পানি। বাংলাদেশ ওই মামলায় হেরে যায়। ১০ হাজার কম্পিউটার তো গেলই, ৩২ কোটি টাকা ডেমারেজও দিতে হলো।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ৪টি উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ছে সব সময় আমাদের সহযোগিতা করছে। আমরা তার পরামর্শে এ কাজগুলো করি। এসব বিষয়ে সে স্কুল জীবন থেকেই পরামর্শ দিচ্ছে। সে যখন স্কুলে তখন থেকেই তার থেকে শিখছি।

সরকার প্রধান বলেন, আমরা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে পেরেছি। আমি খুশি। আমাদের সব অফিসে কম্পিউটার ব্যবহার হয়। একটা সময় আমাকে এটা চাপ দিতে হয়েছিল। আমার কাছে নোট শিট কম্পিউটারি ট্যাগ করা না হলে আমি সই করতাম না। এখন আর সেটা হয় না। এখন সবাই ব্যবহার করতে পারেন। ঘরে ঘরে হাতে হাতে কম্পিউটার-ল্যাপটপ, গ্রামেও পৌঁছেছে।

প্রকল্পগুলো হলো— পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার প্যানেলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শীর্ষক প্রকল্প, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে গবেষণা প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি গাজীপুরের ডাটা সেন্টার ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) নতুন ৫টি জাহাজের প্রকল্প।

পরে প্রতিটি প্রকল্প সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন এবং ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে এ দেশ উন্নত দেশ হতো। স্বাধীনতার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্ত পরিবেশ ছিল। কিন্তু ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধান করি। শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরে এসেছে। সেখানকার এক হাজার ৮০০ অস্ত্রধারী আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের আমরা পুনর্বাসন করেছি। বিএনপির আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। এখন সেখানে উন্নয়নের ঢেউ উঠেছে। সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সেখানে রাতদিন কাজ হচ্ছে। অর্থ-নীতির গতি সঞ্চার হচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বলে গ্রিড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব না। এ কারণে আমরা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলোকিত করেছি। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম নয়, বাংলাদেশের একটি ঘরও অন্ধকার থাকবে না। প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে। কাজের গতি বাড়বে, সময় বাড়বে। সন্ধ্যা হলেই এখন অনেকে আর ঘুমিয়ে পড়ে না। বিদ্যুতের আলোয় কাজ করে।

এভাবেই সবার কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্পর্কিত খবর