জনবল চুক্তির মেয়াদ বাড়ছে, ব্যয় বাড়বে ১১২ কোটি টাকা
পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ১২১ ক্যাটাগরির জনবলের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। তাতে প্রকল্পের এই খাতে ব্যয় বাড়বে ১১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
আগামী রবিবার স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এই প্রস্তাব তোলা হবে। প্রস্তাব পাস হলে একজনের সর্বোচ্চ দেড় বছর পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ খাতের ব্যয় বৃদ্ধি প্রকল্পের মূল ব্যয়ের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। প্রকল্পের থোক বরাদ্দ থেকে এই অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো হবে। প্রকল্পে এই খাতের জন্য ৯৪০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ ছিল।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি), সেল অব ক্রপস অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সহযোগিতায় বিআরটিসি ও বুয়েটকে যুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এখন এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানো হবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘এখনো থোক বরাদ্দে ৩৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা রয়েছে। সেখান থেকে এই বাড়তি অর্থ ব্যয় করা হবে। তা ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ থেকে ২০০ কোটি টাকার মতো খরচ বেঁচে যাবে। আন্ত খাত সমন্বয় করে খরচের হিসাব করা হবে। ’
তবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘আমরা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব জানাব। সেখান থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ঘুরে প্রস্তাবটি পাস হবে। ’
পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৬৯ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। লুপ ও সাইডিং ৪২.২২ কিলোমিটার এবং তিন কিলোমিটার ডাবল লাইনসহ মোট ২১৫.২২ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। এই পুরো পথে নিচু জায়গায় ২৩.৩৭৭ কিলোমিটার উড়াল (ভায়াডাক্ট) রেলপথ নির্মাণ করা হবে। থাকবে ৬৬টি বড় সেতু। ছোট সেতু, কালভার্ট ও আন্ডারপাস থাকবে ২৪৪টি। নির্মাণ করা হবে একটি হাইওয়ে ওভারপাস এবং ২৯টি লেভেলক্রসিং। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত এই রেলপথে ১৪টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। আর বিদ্যমান ছয়টি স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।
প্রাথমিকভাবে পুরো রেলপথকে তিন ভাগে ভাগ করে কাজ করছে রেল মন্ত্রণালয়। মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত অংশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে মাওয়া এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
রেল মন্ত্রণালয় বলছে, মাওয়া-ভাঙ্গা অংশটি পদ্মা সেতুর সড়কপথের সঙ্গে চালু করার কথা থাকলেও এখন লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর। আর অন্য দুই অংশের কাজ ২০২৩ সাল নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রেলপথ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা ছিল ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে। সর্বশেষ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পুরো রেলপথের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া অংশের অগ্রগতি ৪৯ শতাংশ, ভাঙ্গা-যশোর অংশের অগ্রগতি ৪৪ শতাংশ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলমান মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৭৬ শতাংশ।



