আলিফ গ্রুপকে বিএসইসির সম্মতি

সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানি সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস লিমিটেডের দায়দেনা পরিশোধে আলিফ গ্রুপকে সম্মতি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (বিএসইসি)। সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের নামে ব্যাংক হিসাব খোলায় জটিলতার সম্মুখীয় হওয়ার কারণে আলিফ গ্রুপের ব্যাংক হিসাব থেকেই সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের দায়দেয়া পরিশোধের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। সম্প্রতি আলিফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির সহকারী পরিচালক মো. মোসাব্বির আল আশিক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের বিভিন্ন বিল ও ব্যাংকের দায়দেনা নিষ্পত্তির জন্য যখন যেভাবে প্রয়োজন হবে অর্থ পরিশোধের জন্য আলিফ গ্রুপকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে পরিশোধিত এ অর্থ সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের সম্ভাব্য ক্রেতার শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে কিংবা আলিফ গ্রুপকে ফেরত দেয়া হবে।

আলিফ গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের দায়দেনা পরিশোধের জন্য গ্রুপটির পক্ষ থেকে কোম্পানিটির নামে ব্যাংক হিসাব খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু জটিলতার কারণে ব্যাংক হিসাব খুলতে সময় লাগছে। এ পরিস্থিতিতে আলিফ গ্রুপের ব্যাংক হিসাব থেকে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের দায়দেনা পরিশোধ করার জন্য কমিশনের অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এ অনুমোদন দিয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস অধিগ্রহণে আলিফ গ্রুপকে অনুমোদন দেয় বিএসইসি। কমিশনের কাছে দেয়া আলিফ গ্রুপের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে নতুন শেয়ার ইস্যু ও বন্ডের মাধ্যমে মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে প্রযোজ্য সব সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আইনের বিধিবিধান পরিপালন সাপেক্ষে আলিফ গ্রুপকে তাদের প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ কার্যক্রম নিষ্পত্তি করতে হবে। সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের উৎপাদন চালু করতে আলিফ গ্রুপকে অবিলম্বে কাজ শুরু করতে হবে। এজন্য গ্যাস লাইনসহ অন্যান্য সব সেবাসংক্রান্ত সমস্যা নিরসন করতে হবে। সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের ব্যাংকে থাকা দায় আলিফ গ্রুপকে পরিশোধ করতে হবে। আলিফ গ্রুপের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডকে সিকিউরিটিজ আইন মেনে ঝুলে থাকা সব এজিএম সম্পন্ন ও আর্থিক প্রতিবেদন নিয়মিত জমা দিতে হবে। শেয়ার মানি ডিপোজিট বা সংগৃহীত অর্থ আলাদা ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। যা দিয়ে শুধু ব্যাংকের দায় মেটানো ও উৎপাদন চালুর কাজে ব্যবহার করা যাবে। সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের উৎপাদন শুরু করতে আলিফ গ্রুপ সব ধরনের উদ্যোগ ও দায় গ্রহণ করবে।

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের অধিগ্রহণের বিষয়ে অবহিত করতে গত বছরের নভেম্বরে আলিফ গ্রুপের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিমুল ইসলাম জানান, আলিফ গ্রুপের অধী্থ কোনো কোম্পানি সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসকে অধিগ্রহণ করবে না। বরং গ্রুপটির পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার নিয়ে কোম্পানিটির দায়িত্ব নেবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানিয়েছিলেন, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। সুদসহ ব্যাংকের দেনা রয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। আর সুদ ছাড়া ২২ কোটি ৫০ হাজার টাকা দেনা রয়েছে। কোম্পানিটির কিছু অব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি রয়েছে এবং কিছু যন্ত্রপাতির কোনো খোঁজ নেই, আবার কিছু যন্ত্রপাতি এখনো ব্যবহার উপযোগী করা হয়নি। এছাড়া কোম্পানির কারখানার গ্যাস লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বন্ড লাইসেন্স স্থগিত, সম্পদ বণ্টনে অসামঞ্জস্যতা এবং বর্তমান উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে মাত্র ৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটি চালু করতে প্রাথমিকভাবে ৩০ থেকে ৬০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এজন্য শিগগিরই একটি শেয়ার মানি ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলা হবে। যেখানে শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসাবে অর্থ জমা রাখা হবে। এই অর্থ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য ব্যবহার করা হবে। এছাড়া কারখানায় বিএমআরই, গ্যাস সংযোগ চালু, স্থগিত থাকা বন্ড লাইসেন্স চালু এবং কোম্পানির কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে ব্যয় হবে। দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির সক্ষমতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, খায়রুল কমিশনের সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেড ক্যাটাগরিতে থাকলেও এর পর্ষদ কোম্পানিটির অবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তালিকাভুক্তির পর থেকেই এর পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে না। এছাড়া কোম্পানিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এজিএম আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছে, চার বছর ধরে কোম্পানিটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নিয়মানুযায়ী পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়নি। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুখসানা মোরশেদ কমিশনের পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই তার কাছে থাকা কোম্পানির সব শেয়ার বেশি দামে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং এতে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ধারণ করা শেয়ারের পরিমাণ ২২ দশমিক ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া কোম্পানিটি লিস্টিং রেগুলেশনসহ অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে। এসব কারণে গত বছরের মার্চে কোম্পানিটির পর্ষদ পুনর্গঠন করে সেখানে সাতজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি।

সম্পর্কিত খবর