বিদায়ী বছরে রাশিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলনে পুনরুদ্ধার
নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু এ সময় সরবরাহ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ফলে পণ্যটির বাজারদর ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলারের ঘরে নেমে যায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে রাশিয়া উত্তোলন কমিয়ে আনে। তবে ২০২১ পরিস্থিতি আবারো স্বাভাবিক হতে শুরু করলে ওপেকের সিদ্ধান্ত মেনেই উত্তোলন বাড়াতে থাকে রাশিয়া। বছর শেষে শীর্ষ উত্তোলক দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খাতে পুনরুদ্ধার ঘটেছে।
সদ্যবিদায়ী বছরে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ২ শতাংশেরও বেশি হারে বেড়েছে। মূলত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের মিত্র দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় এমন প্রবৃদ্ধি এসেছে।
রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স ও রয়টার্স জানায়, গত বছর দেশটির দৈনিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস কনডেনসেট উত্তোলন বেড়ে ১ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। ২০২০ সালে দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল।
টনের হিসাবে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস কনডেনসেট উত্তোলন বেড়ে ৫২ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার টন। তবে উত্তোলন লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়লেও তা সোভিয়েত-পরবর্তী রেকর্ড উত্তোলনের নিচে অবস্থান করছে। ২০১৯ সালে দেশটি রেকর্ড ৫৬ কোটি ২ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছিল।
ইন্টারফ্যাক্স জানায়, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বাইরে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন গত বছর ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৪৪ লাখ টনে।
২০২০ সালে ওপেকভুক্ত শীর্ষ জ্বালানি তেল উত্তোলক দেশগুলোর মতো রাশিয়াও উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বছরের এপ্রিলে দেশটি দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি করে উত্তোলন কমানোর ঘোষণা দেয়।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বলেন, চলতি বছর দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস কনডেনসেট উত্তোলন আরো বেড়ে ৫৪-৫৬ কোটি টনে উন্নীত হতে পারে। দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৮ লাখ থেকে ১ কোটি ১২ লাখ ব্যারেল। আগামী বছর উত্তোলন ৫৪ কোটি ২০ লাখ থেকে ৫৬ কোটি ২০ লাখ টনে স্থির থাকবে।
তিনি আরো বলেন, চলতি বছরের মে মাসের মধ্যেই রাশিয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হবে। যদিও অনেক বিশ্লেষক এ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ চলতি বছর ওমিক্রনের সংক্রমণপ্রবাহ ব্যাপক আকার ধারণ করলে উল্টো উত্তোলন তলানিতে ঠেকতে পারে।
এদিকে ওপেকভুক্ত অনেক দেশের উত্তোলন সক্ষমতা ব্যাপক হারে কমেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব দেশের উত্তোলন কমায় বছরের শেষ দিকে এসে ওপেক উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল।
অন্যদিকে ওপেক ও এর মিত্র দেশগুলো প্রতি মাসে সীমিত আকারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করছে। আগামীকাল অনুষ্ঠেয় বৈঠকে জোটটি এ নীতিতেই অটল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


