উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ে তোলার শপথ

বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উন্নত-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সবাইকে সর্বশক্তি নিয়োগ করার শপথ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে এ শপথবাক্য পাঠ করান। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় দেশের বিভাগীয় শহরগুলোসহ তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরের দেশবাসী সোস্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন ও অনলাইনে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও এ সময় ডায়াসে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন।

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আসুন আমরা বাংলাদেশের বিজয়ের এ সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব বর্ষে শপথ গ্রহণ করি, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব, বিশ্বসভায় উন্নত সমৃদ্ধ বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে চলব। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা এখন শপথ গ্রহণ করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন

করেছে। বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতি প্রতিষ্ঠা করেছে তার স্বতন্ত্র জাতিসত্তা। আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব বর্ষের বিজয় দিবসে দৃপ্তকণ্ঠে শপথ করছি, শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, দেশকে ভালোবাসব, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ে তুলব। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।

শপথবাক্য পাঠ অনুষ্ঠানের পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর মূল আয়োজন ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, মাদক নির্মূল করার জন্য আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আমরা দেশের মানুষের শান্তি চাই, নিরাপত্তা চাই। উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করার এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ৫০ বছর আমাদের স্বাধীনতার, আমরা কতদূর এগোতে পেরেছি সেটাই বড় কথা। দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে ২০ ভাগে নামিয়েছি। প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়েছি। বাংলাদেশের প্রতিটি গৃহহারা ও ভূমিহীন মানুষকে বিনা পয়সায় আমরা ঘর দিচ্ছি। জাতির পিতা চেয়েছিলেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। আর আমাদের সেটাই লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। যদিও কভিড-১৯ আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু তার পরও করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছি। আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে উন্নত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। তাছাড়া সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছি। জাতির পিতার দেয়া পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখেই দেশের উন্নয়নের চাকাকে আমরা সচল রেখেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে এবং তারা পালন করছে। সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি। বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ। সেটা আমরা অর্জন করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আজকে আমরা বিজয়ের উৎসব ব্যাপকভাবে উদযাপন করেছি। করোনার কারণে আগে আমরা করতে পারিনি। তবে এবারে আবার নতুন উদ্যমে আমাদের বিজয়ের এ উৎসব করেছি এবং এ উৎসব শুধু উৎসব না, এ উৎসব আমাদের আগামী দিনের চলার পথের প্রতিজ্ঞা যে, বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে ইনশা আল্লাহ আমরা গড়ে তুলব।

আলোচনা শেষে সম্মাননীয় অতিথি ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের হাতে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধা স্মারক তুলে দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত দুটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য দেন।

 

সম্পর্কিত খবর