বুথ থেকে টাকা চুরি, ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
রংপুর নগরের একটি এটিএম বুথ থেকে ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় আবু রায়হান নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই ব্যক্তি প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের রংপুর শাখায় অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। মহামারি কভিডে বদলির আদেশের সুযোগ নিয়ে ওই ব্যাংকেরই এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি করেন।
এ ঘটনাটি গত বছর ৬ অক্টোবর ঘটেছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চুরির রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের ডিসির মোড় এলাকা থেকে আবু রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআইয়ের রংপুর জেলা পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন।
আবু রায়হান কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ওমানন্দ গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে। তার বর্তমান কর্মস্থল বগুড়ায় প্রাইম ব্যাংকের শেরপুর শাখা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর প্রাইম ব্যাংক রংপুর শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পীষূয কুমার রায় রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে রংপুর প্রেস ক্লাবের বিপরীতে ধর্মসভা মন্দিরের পাশের ভবনের নিচতলায় অবস্থিত প্রাইম ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অজ্ঞাত হ্যাকার, চোর, ই-ট্রাঞ্জেকশন অথবা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে চুরি হয়েছে দাবি করা হয়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মামলাটি রংপুর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়। এরপর অনুসন্ধানে বের হয় এটিএম বুথ থেকে এসব টাকা চুরি হওয়ার নেপথ্যের রহস্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এটিএম বুথে টাকা লোড দেয়ার সময় প্রাইম ব্যাংকের রংপুর শাখার কাস্টমার সার্ভিস অফিসার মো. মোস্তাফিজ ও অফিসার আবু রায়হান উপস্থিত ছিলেন। তারা দুজনই ব্যাংকের পাসওয়ার্ডধারী অফিসার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভল্টে টাকা লোড দিয়ে আসছিলেন। গত বছর ১৭ জুন এটিএম বুথের কাস্টমারের জন্য সংরক্ষিত ডিজিটাল প্যাড অকেজো হলে ও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে ঢাকা থেকে আসা প্রকৌশলীদের এনে ৪ অক্টোবর এটিএম বুথ মেরামত করা হয়। এ সময় যুগপৎ দুটি পাসওয়ার্ড দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ভল্ট খুললে তিনটি ক্যাসেট চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে।
তদন্তে জানা যায়, আবু রায়হান বগুড়ায় বদলি হওয়ার পরও তিনি গত বছর ২০ আগস্ট পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংক রংপুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। ১৭ জুন এটিএম বুথ বিকল হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনবার ভল্টে লোড দেয়া হয়। প্রথম দিন টাকা লোড দেয়ার পাসওয়ার্ড বহনকারী সিনিয়র অফিসার মো. ফরহাদ ও আবু রায়হান উপস্থিত ছিলেন। এরপরের বার আবু রায়হান ও ব্যাংকের ফ্যাসিলিটিজ স্টাফ মিলন মিয়া ছিলেন। আবু রায়হান সেদিন এটিএম বুথে উপস্থিত হয়ে মিলনের মোবাইল ফোন থেকে সিনিয়র অফিসার ফরহাদের কাছ থেকে রক্ষিত পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে ভল্টের ডোর খুলে টাকা লোড দেন। সর্বশেষ তৃতীয়বার ভল্টে টাকা লোড করার আগে আবু রায়হান ব্যাংকের অভ্যন্তরে ফরহাদের কাছ থেকে চিরকুটে পাসওয়ার্ড লিখে নিয়ে ৩০ লাখ টাকা টাকা বুথে নিয়ে ভল্টে লোড দেন। তিন দফায় ভল্ট লোডের সময় টাকা চুরির ঘটনাটি ঘটে।
বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের বরাত দিয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, এটিএম বুথে কোনো আঘাত কিংবা কোনো ক্ষতের এমনকি বাইরে থেকে কোনো বল প্রয়োগ ছাড়াই ভল্ট থেকে টাকার ক্যাসেট সরানো হয়েছে। এটি শুধু পাসওয়ার্ড ও সেফডোর কি (চাবি) অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।
আবু রায়হান পাসওয়ার্ড জানতেন। তিনি কভিডে বদলির সুযোগে পরিকল্পিতভাবে বুথের ভল্ট থেকে ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা চুরি করেন। গ্রেপ্তার আবু রায়হানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


