শিরোনাম
স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিধিনিষেধ প্রত্যাহারডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, ভর্তি ১,৯০২তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণমিউচুয়াল ফান্ডে এনএভি বিবেচনার আহ্বান বিএসইসিরবন্ডের ১৩.৩৫ লাখ কেজি কাঁচামাল উধাওসূচকের পতনে লেনদেন ৫৩৭ কোটি টাকারসিএন্ডএ টেক্সটাইলের কারখানা বন্ধ পেল ডিএসইনিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৪১৪সোনার দাম কমলনোবেল জয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু আজরাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, ভর্তি ২০৮৯ফের বাড়ল এলপিজির দাম৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য
down of head

শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে আইনমন্ত্রী
‘১৫ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি থাকলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাবে’

কারখানায় ১৫ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি থাকলে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারবে, এমন বিধান রেখে শ্রম আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আজ দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর আইন সংশোধনের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, ‘আইএলও সুনির্দিষ্টভাবে যে পরামর্শ দিয়েছেন আমার মনে হয়ে, আমরা তা বুঝতে পেরেছি। সেগুলো (পরামর্শ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, থ্রেশহোল্ড (ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে শ্রমিকদের সম্মতির হার) কমিয়ে আনা। থ্রেশহোল্ড কমিয়ে আনার ব্যাপারে ২০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু সেটা যে ফ্যাক্টরিতে তিন হাজার বা তার বেশি শ্রমিক থাকবে, সেসব ফ্যাক্টরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল। এই বিধানটা আমরা সংশোধন করে সব ফ্যাক্টরির জন্য করা হয়েছে।

এখন ১৫ শতাংশ থ্রেশহোল্ড হলেই শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারবে। এই প্রস্তাবটা (আইএলওর) আমরা মেনে নিয়েছি এবং সেটা অন্তর্ভুক্ত করছি। এটিই উল্লেখযোগ্য সংশোধনী।’ তবে থ্রেশহোল্ড ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা আমাদের শ্রম আইন সংশোধন করেছি। এটা গত পার্লামেন্টে সংশোধিত হয়েছিল, পরে রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছিল। আইনটিতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় পরে ফেরত আনা হয়।’

এই আইনটা যখন প্রণয়ন করা হয় তখন আমরা সারা বিশ্বের বেস্ট প্র্যাকটিসগুলো অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অন্তর্ভুক্ত করণের চেষ্টায় আইএলওর কনট্রিবিউশন ছিল। আপনারা এও জানেন, ২০১৯ সালে আইএলওচর গভর্নিং বডি বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার নিয়ে বেশ কিছু নালিশ করেছিল।

এই নালিশের পরে আমরা বহুবার আইএলওর গভর্নিং বডির মিটিংয়ে বলেছি, শ্রমিকদের অধিকার আমাদের দেশে শুধু রক্ষাই হয় না, শ্রমিকদের অধিকার আরো সুদৃঢ় হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে অহেতুক নালিশ করা হয়েছে। এর শেষ হওয়া উচিত।’
আইএলওর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কারণ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যতক্ষণ শ্রম আইনটাকে সঠিকভাবে সংশোধন সম্পন্ন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কিন্তু স্টেক হোল্ডার (অংশীজন)। শ্রমিক অধিকার নিয়ে যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা কথা বলে, তাদের কথা শুনব। তারা যে সাজেশন দিচ্ছে তার সাথে কোনো মৌলিক পার্থক্য আছে কিনা, তা দেখব। আমরা কিন্তু কোনো মৌলিক পার্থক্য খুঁজে পাইনি। শ্রমিক অধিকার রক্ষা, সংরক্ষণে সব অংশীজনদের কথা শোনা হবে, শুনব। সে কারণেই আমরা (সরকার-আইএলও প্রতিনিধি) আলাপ-আলোচনায় বসেছিলাম। আমরা তাদের (আইএলওর) সাজেশন শুনেছি।’

আইএলওর এসব পরামর্শ আগামী ৭ মে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভায় তোলা হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১২ মে সেটা (শ্রম আইন সংশোধন) সম্পন্ন করার জন্য একটা সভা ডাকব এবং সেখানে সাজেশন এবং সংশোধনের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে আসব।’

মালিকদের সাজা বাড়ানো নিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা বারবার একটা কথা বলেন, মালিকরা কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, তাঁদের বিচার হচ্ছে। মালিকদের সাজা বাড়ানোর কথা ঠিক না। ব্যাপারটা হচ্ছে, শ্রমিক অধিকার যারা লঙ্ঘন করে তাদের সাজা বাড়ানোর ব্যাপারে আইনে একটা ধারা আছে। পাঁচ হাজার টাকা সাজা ছিল। এখন সেই সাজাটাকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এটা হয়তো ২৫ হাজার টাকা করা হবে। সেটাও মালিকদের সাথে, শ্রমিকদের সাথে এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই করা হবে।’

গত বছর ২৯ অক্টোবর একাদশ সংসদের শেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ শ্রম আইনের বেশ কয়েকটি ধারায় সংশোধন এনে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৩’ উত্থাপন করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২ নভেম্বর বিলটি সংসদে পাস হয়। বিলটি পাসের পর আইনে পরিণত করার বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে ৮ নভেম্বর তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু সম্মতি না দিয়ে সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ২০ নভেম্বর তা সংসদে ফেরত দেন রাষ্ট্রপতি।

এন এস

সম্পর্কিত খবর