১৩ বছরের সর্বোচ্চ সুদহার বাড়াল ব্যাংক অব ইংল্যান্ড
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড নিজেদের মূল সুদহার সম্প্রতি ১৩ বছরের সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী উচ্চ জ্বালানি মূল্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান ও কভিড-১৯-এর নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর আরব নিউজ।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটি টানা চারটি বৈঠকের পর ৬-৩ ভোটে সুদহার বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়। সুদহার বৃদ্ধির ফলে অন্য ব্যাংকগুলো এখন থেকে ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের ফলে ১ শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুদহার আগের চেয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের একাংশ এটিকে আরো বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর পরই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করল ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। সম্প্রতি ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুদহার বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ সুদহার আরো বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছে ইউএস ফেড। ইউএস ফেড তার কি শর্ট-টার্ম রেট অর্ধশতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে তা দশমিক ৭৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করেছে। এর ধারাবাহিকতায় সুইডেন ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ভোক্তামূল্য বাড়ার ফলে যুক্তরাজ্যে জীবনযাপন ব্যয় ক্রমেই ঊর্ধ্বগতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি ব্যয়, ক্রমবর্ধমান খাদ্য ব্যয় ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগ্রাসী নীতি পরিহার করে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরে রাখতে যথেষ্ট সচেতনতা প্রদর্শন করতে চাইছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। তবে এর ফলে ভোক্তাদের আস্থা ক্রমেই কমে আসছে।
ইনভেস্টেকের হেড অব ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড ইন্টারেন্স রেটস ট্রেডিং দেমিত্রি থিউডোসিও এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সামনে এখন কঠিন মুহূর্ত অপেক্ষা করছে। বিভিন্ন খাত থেকে মূল্যস্ফীতির চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
মার্চে ব্রিটেনের মূল্যস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ শতাংশ, যা দেশটির ইতিহাসে গত ৩০ বছরের সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমান ছিল এ সময় মূল্যস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ শতাংশের মতো। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন চলতি বছরের পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।



