শিরোনাম
icon হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৯৬ icon প্রিমিয়াম জালিয়াতি, কার্গো বীমায় নিষিদ্ধ বিজিআইসি icon সাবেক মন্ত্রীসহ শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশনা icon লেনদেনের শীর্ষে শাহজিবাজার পাওয়ার icon দর বৃদ্ধির শীর্ষে জাহিন স্পিনিং icon দরপতনের শীর্ষে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স icon চুলের সাজে তরুণীর রূপে পূর্ণিমা icon ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৫৯৬ icon যেসব এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা ডিএমপির icon শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস নয়: হুমায়ুন কবির icon ৩ মাসের জন্য বন্ধ গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসা icon দুলামিয়া কটনের পর্ষদ সভা ১১ নভেম্বর icon ইন্ট্রাকোর পর্ষদ সভার নতুন তারিখ ১০ নভেম্বর icon সূচকের উত্থানে লেনদেন ৬৪৫ কোটি টাকা icon ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ icon আশুলিয়ায় ৩৫ কারখানায় ছুটি ঘোষণা icon ফারইস্ট নিটিংয়ের বোর্ড সভা ১১ নভেম্বর icon বিডি থাই ফুডের বোর্ড সভা ১৪ নভেম্বর icon সমতা লেদারের বোর্ড সভা ১০ নভেম্বর icon কুইন সাউথের বোর্ড সভা ১১ নভেম্বর icon সোনার দামে বড় লাফ icon সূচকের উত্থানে চলছে লেনদেন icon মোংলার পথে প্রধানমন্ত্রী icon হাওয়েল টেক্সটাইলের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon তিন দিনে ৫২১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স
down of head

সব দুধে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই এই ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব মিলেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় উদ্বেগের বিষয়।

‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন অব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ: ক্যারেক্টারাইজেশন, ডায়েটারি এক্সপোজার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বে যবিপ্রবির একদল গবেষক। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানে এটি পরিচালিত হয়। গবেষকদের দাবি, দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং মানবদেহে এর প্রবেশ ও ঝুঁকি নিয়ে এটিই প্রথম কোনো বিস্তৃত গবেষণা।

৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই প্লাস্টিক কণা
গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুপারশপ থেকে মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কাঁচা দুধ: ১৭টি (ঢাকা, যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম থেকে সংগৃহীত)। ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ: ১২টি। অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য: ১২টি।

মাইক্রোস্কোপ এবং এফটিআইআর প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর দেখা যায়, সব কটি নমুনার ভেতরেই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খোলা বা কাঁচা দুধের তুলনায় প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ব্র্যান্ডের দুধ: প্রতি ১০০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬.৬টি কণা। কাঁচা দুধ: প্রতি ১০০ মিলিলিটারে গড়ে ৯৩.৩৯টি কণা। দুগ্ধজাত পণ্য: প্রতি ১০০ মিলিলিটারে গড়ে ৭০.৮০টি কণা।

দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং কারখানার যন্ত্রপাতি বা পাইপের সংস্পর্শে এসে এসব প্লাস্টিক কণা দুধে মিশতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

দুধে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের বেশিরভাগই ছিল স্বচ্ছ, আঁশের মতো এবং আকারে ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম। কাঁচা দুধে ৭৭.৪৮% এবং ব্র্যান্ডের দুধে ৮২.৮৩% কণা ছিল আঁশ আকৃতির। এতে পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস ও পলিস্টাইরিনের মতো ক্ষতিকর পলিমার শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীরের ওজন কম এবং দুধের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকায় তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্ভাব্য হার অনেক বেশি।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টার ব্যবহার এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের জোর সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।

সম্পর্কিত খবর