সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহ্য হারাচ্ছে শতবর্ষী মসজিদ

সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে মুঘল আমলে নির্মিত শত বছরের পুরনো মসজিদ।

ঝালকাঠির নলছিটিতে সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে মুঘল আমলে নির্মিত শত বছরের পুরনো জামে মসজিদ। স্থানীয়দের দাবি মতে মসজিদটি সঠিক কতসালে নির্মাণ করা হয়েছে তার কোন সঠিক তথ্য কারও জানা নেই। তবে অনেকের ধারণা এটি শত বছরের বেশি পুরনো। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে একটি ধারনা প্রচলিত আছে, তাদের মতে মসজিদটি একরাতে পরীতে তৈরি করেছেন যার কারণে এটাকে অনেকে পরীর মসজিদ নামেও অভিহিত করে থাকেন।

তবে এর নির্মাণ শৈলী দেখে ধারনা করা হয়েছে মুঘল আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের হদুয়া সড়কের পাশে দক্ষিণ কামদেবপুর গ্রামে অবস্থিত মসজিদের বর্তমানে নাম দেয়া হয়েছে দক্ষিণ কামদেবপুর ব্যাপারী বাড়ী বায়তুল আমান জামে মসজিদ।

এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের চারপাশে রয়েছে আরও চারটি মিনার। ১২ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট প্রশস্ত মসজিদ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে চুন ও সুরকি। দেয়াল গুলো নির্মাণ করা হয়েছে খুবই মজবুত করে। প্রতিটা দেয়াল প্রশস্ত হবে ২ থেকে ৩ ফুট। ছিল বিভিন্ন ধরনের কারুকার্য। তবে কারুকার্যগুলো এখন আর স্পষ্ট দেখা যায় না। গম্বুজসহ এর উচ্চতা প্রায় ৩০ফুট হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। উপরের পলেস্তারা খসে পড়লেও মসজিদের মূল দেয়ালগুলো এখনো অক্ষত আছে। ভিতরে একটি মিম্বর রয়েছে আর দুই পাশে দুটি জানালা। আয়তন অনুযায়ী এখানে ৮ থেকে ১০জন মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের ইমাম কবির আহমেদ জানান, মসজিদটি বেশ কয়েকবার স্থানীয়ভাবে সংস্কার করা হয়েছে তবে আয়তন কম হওয়ায় সাথেই নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে বর্ধিত অংশে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। আর মসজিদের পুরনো অংশের ভবন স্মৃতি হিসেবে রাখা হয়েছে। এটা নিয়ে স্থানীয়দের অনেক ধারনা আছে। এখনো অনেক মানুষ এই মসজিদে বিভিন্ন ধরনের মানত করে থাকেন। তবে এর নির্মাণ কারুকার্য দেখে ধারনা করা হয় এটা মোগল আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম জানান, পুরনো স্থাপনাগুলো ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ তাই এগুলো সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর