শিরোনাম
icon সংঘাত দীর্ঘ হলে বাড়বে মূল্যস্ফীতি icon কমলা শাড়িতে মোহনীয় পরীমনি icon ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩, হাসপাতালে ভর্তি ১,২৬২ icon বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা icon পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু icon রূপপুরে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু icon কমলো সোনার দাম icon এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ল ৩ বছর icon শীতের সবজি বাজারে, বিপাকে ক্রেতারা icon নভেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম icon ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল জয়ী icon স্বাস্থ্যবীমার দাবি পরিশোধ করল বেঙ্গল ইসলামী লাইফ icon যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পিএইচপি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড পরিদর্শন icon ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, ভর্তি ১,৮৮৬ জন icon প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে ২৯৬ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের তাগিদ icon হঠাৎ কনের সাজে সাদিয়া আয়মান icon হামের উপসর্গে ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৩১৫ জন icon পে-স্কেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৮ নির্দেশনা icon লেনদেনের শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক icon সূচকের পতনে লেনদেন ৫৬৪ কোটি টাকার icon চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি ১০ কনটেইনার তামাক আটক icon জাপান সফর শেষে রাতে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী icon ইউনিক হোটেলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon এস্কয়ার নিটের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ভিএফএস থ্রেডের লভ্যাংশ ঘোষণা
down of head

সংঘাত দীর্ঘ হলে বাড়বে মূল্যস্ফীতি

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহে ঝুঁকি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে আরো চাপের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। এ ধরনের সংকট মোকাবেলায় দেশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস।

ফিচের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বার্ষিক তেল আমদানি ব্যয় প্রায় ১২০ কোটি ডলার বা এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। এই অতিরিক্ত ব্যয় দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ০.২ শতাংশের সমান।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মূল্যায়নে ফিচ বলেছে, জ্বালানি সরবরাহ ও প্রবাসী শ্রমিকের কর্মসংস্থান, দুই ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বেশি। ফলে অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। ফিচের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেক এসেছে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। বর্তমানে প্রবাস আয় ভালো অবস্থানে থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে।

ফিচের আশঙ্কা, প্রবাস আয় কমলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একই সময়ে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়লে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি হবে।

দেশের মোট আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় সরাসরি বেড়ে যায়। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহেও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা রয়েছে।

ফিচের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এলএনজিনির্ভর, আর এই গ্যাসের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকট তাই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
ফিচ বলেছে, জ্বালানির উচ্চ মূল্য আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে বাণিজ্য ভারসাম্যের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এতে টাকার বিনিময়মূল্য দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৮ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.২ শতাংশে নেমেছিল। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশে দাঁড়ায়।

ফিচের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে সরকারকে এলএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হতে পারে। এতে সরকারি ব্যয় বাড়বে এবং বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।

সম্পর্কিত খবর