সংকট মোকাবেলায় কয়লা আমদানি করবে কোল ইন্ডিয়া
আগামীতে ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন নিয়ে এরই মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়ার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কয়লা না পাওয়ায় এ সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কয়লা আমদানি করতে যাচ্ছে দেশটি। শিগগিরই জ্বালানি পণ্যটি আমদানির জন্য দুটি টেন্ডার ইস্যু করতে যাচ্ছে কোল ইন্ডিয়া। স্বল্প ও মধ্যম সময়ের মধ্যে সরবরাহের জন্য এ টেন্ডার ইস্যু করা হবে।
কোম্পানি সংশ্লিষ্ট দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জ্বালানি পণ্যটি আমদানি করার জন্য আগামী সপ্তাহে টেন্ডার ইস্যুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ কয়লা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি। জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কোল ইন্ডিয়া ভারতের রাষ্ট্রীয় কয়লা উত্তোলক কোম্পানি। খুব কমই কয়লা আমদানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় জ্বালানি সংকট দেখা দেয়ায় আগাম এ উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি। বিদেশ থেকে কয়লা আমদানির জন্য গত সপ্তাহেই প্রতিষ্ঠানটিকে দায়িত্ব দেয় দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।
আসন্ন জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে এটা আগেই অনুমিত ছিল। তবে এখনকার প্রাক্কলন বলছে, আগের চেয়ে চাহিদা ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারে। সেটি হলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে না পারলে বিদ্যুতের সংকট দেখা দেবে। এজন্যই দ্রুত কয়লা আমদানি করে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে চায় দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। তাই দুই দফায় কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্প সময়ের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী জুলাই-ডিসেম্বরের মধ্যে কয়লার চালান দেশে আসতে হবে। আর মধ্যম সময়ের আমদানির জন্য আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় ধরা হয়েছে। এ বছরের জুলাই থেকে আগামী বছরের এ সময়ের মধ্যে আমদানীকৃত কয়লা সরবরাহ করতে হবে। আমদানির ক্ষেত্রে কোনোভাবে যেন সময়ক্ষেপণ না হয়, এজন্য বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) ভিত্তিতে টেন্ডার ইস্যু করা হবে। যদিও মন্ত্রণালয় সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে কয়লা আমদানির পরামর্শ দিয়েছিল। তবে এ প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় শেষ পর্যন্ত বিটুবি ভিত্তিতে কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে কোল ইন্ডিয়ার পর্ষদ সভায় অনুমোদন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে থার্মাল কোল আমদানি কমিয়ে আনার নীতি অনুসরণ করে আসছে ভারত। বিপরীতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় দেশের মধ্যে বন্ধ করে দেয়া কয়লা খনিগুলো পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।



