শিরোনাম
down of head

বললেন প্রধানমন্ত্রী
‘শক্তিশালী সংসদ দেশকে এগিয়ে নিতে পারে’

জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী সংসদ ও প্রশাসন একটি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘‌ক্ষমতা গ্রহণের পর আমরা বিচার বিভাগকে প্রশাসন থেকে আলাদা করে সম্পূর্ণ স্বাধীন করেছি, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল।’

গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘‌ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাউথ এশিয়ান কনস্টিটিউশনাল কোর্টস ইন দ্য টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি: লেসন্স ফ্রম বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি ড. ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড় বক্তৃতা করেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম স্বাগত বক্তৃতা করেন।

উচ্চ আদালতের রায়ে সামরিক শাসন এবং সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলকে অবৈধ হিসেবে রায় দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‌‌‌২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর যখন এ রায় এল, সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার গণতন্ত্রকে সুসংহত করি। আমাদের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ যেখানে বলা আছে যে “‍এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ”, সেখানে আরেকটি অনুচ্ছেদ আমরা যুক্ত করে এ উচ্চ আদালতের রায় অনুসারেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী যে অপরাধী এবং সেটা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা আমরা সংযুক্ত করি। এর মাধ্যমে জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‌পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আমরা আইন পাস করেছি। এ নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। তাকে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি। বাজেটেও তাদের জন্য পৃথক বরাদ্দ দিয়েছি। এমনকি আগে বিচার বিভাগও আর্থিকভাবে নির্ভরশীল ছিল সরকারের ওপর। কিন্তু আমরা সরকারে আসার পর বিচার বিভাগকেও সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‌পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন ক্ষমতা জনগণের হাতে ছিল না, ক্যান্টনমেন্টেই বন্দি ছিল, এটাই হলো বাস্তবতা।’

তিনি বলেন, ‘‌আমি ধন্যবাদ জানাই সুপ্রিম কোর্টকে। কেননা, তারা যে আদেশটা দিয়েছিল, সেটাই আমাদের বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়। দুর্ভাগ্যক্রমে প্রায় ২১ বছর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতা মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতেই কুক্ষিগত ছিল।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘‌মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে একটা মামলা ছিল। মার্শাল ল অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে ওই মালিকানাটা দেয়া হয়েছিল অন্য কাউকে। যেটা নিয়ে আদালতে বিচার হয়। সেই বিচারের রায় দিতে গিয়েই সুপ্রিম কোর্ট এ মার্শাল ল-কে অবৈধ ঘোষণা করে। শুধু তা-ই নয়, সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল যে সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক এবং অসাংবিধানিক ও অনির্বাচিত কেউ সরকারে থাকতে পারে না—এটা যে অবৈধ সেই ঘোষণাই জারি হয়। সেটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেয়। তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ এনে দেয়। আর এর মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দেয়া হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের উচ্চ আদালতকে। কৃতজ্ঞতা জানাই সেসব জজ সাহেবদের, যারা রায় দিয়েছিলেন—সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল ও মার্শাল ল জারি অবৈধ।’

‘‌দেশে একটি গণতান্ত্রিক ধারা বা পরিবেশ ছাড়া কখনো কোনো দেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‌ভারতবাসী সেদিক থেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান যে তাদের দেশে ধারাবাহিক গণতন্ত্র চলেছে। হয়তো সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং বিরোধী মতাবলম্বীরাও রয়েছেন, গণতন্ত্র কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি।’

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকেও এ সময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি। এরই মধ্যে ৯০০ জনের বেশি বিচারক ভারতের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেয়ায় ভারত সরকার এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘‌ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে বিভিন্ন কালজয়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ একই আইনের ও আইনি দর্শনের উত্তরাধিকারী হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তগুলো আমাদের উচ্চ আদালতে দৃষ্টান্ত বা রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করার নজির আছে। তাছাড়া কমন-ল কান্ট্রিজ হওয়ার সুবাদে যেকোনো দেশ যে কারো রায়কে প্রিসিডেন্স হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।’

সম্পর্কিত খবর