বুলবুল হত্যাকাণ্ড: বান্ধবীর দাবি হামলাকারী ছিল ৩ জন

গত সোমবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী বুলবুলের বান্ধবী মারজিয়া আক্তার উর্মিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে উর্মিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ।

জানা গিয়েছে, উর্মিকে ঘিরেই চলছে বুলবুল হত্যাকাণ্ডের তদন্ত। চুপিসারে হাসপাতাল ছাড়ার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলেও এখন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে সামনে রেখেই চলছে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক আমিনা পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার রাতের ওই সময়ে বুলবুলের সঙ্গে নির্মম ঘটনা ঘটে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চাইছেন উর্মিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে ঘটনাটি সম্পর্কে ভালোভাবে বলতে পারবে সে। তাই তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।

শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, উর্মির দাবি, বুলবুল ও সে ঘটনাস্থলে বসে ছিলেন। হঠাৎ করে মাস্ক পরা তিন ব্যক্তি সেখানে আসেন। তারা এসে বুলবুলকে একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। এ সময়ে উর্মি অন্যদিকে তাকিয়ে আশপাশে কেউ আছে কিনা দেখতে থাকে বুলবুলকে বাঁচাতে। পরে বুলবুলের দিকে তাকালে তাকে ছুরি মেরে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তখন সে হামলাকারীদের চিনতে পারেনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীন, প্রক্টর ইশরাত ইবনে ইসমাইল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থী বুলবুলে সঙ্গে থাকা একমাত্র সহপাঠী বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মারজিয়া আক্তার উর্মি। আহত অবস্থায় তাকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। তার সঙ্গে একাধিক সহপাঠী ছিলেন। তার নজরদারিতে হাসপাতালে পুলিশও ছিল। তবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে কাউকে কিছু না বলে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে মোবাইলে থাকা কল লিস্ট ও ডিলিট করে দেন। এরপর নগরীর উপকণ্ঠ বাদাঘাট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে আসার পথে তাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। পরে রাতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে তাকে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর প্রক্টরের রুমে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাকে সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে কেবা কারা এ ঘটনায় জড়িত তা এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।

জালালাবাদ থানার ওসি নাজমুল হুদা খান জানান, শুরু থেকেই উর্মির কথাবার্তা আমাদের সন্দেহজনক মনে হচ্ছিলো। হাসপাতাল থেকে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়ার পর আমাদের সন্দেহ আরো বেড়ে গিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জিম্মাই আছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

সম্পর্কিত খবর