বায়োডিজেল হিসেবে ভোজ্যতেলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান

খাবারে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বায়োডিজেল হিসেবে ভোজ্যতেলের ব্যবহার বন্ধ অথবা কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মালয়েশিয়ান পাম অয়েল গ্রুপ। পাম অয়েল রফতানিতে ইন্দোনেশিয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ভয়াবহ সরবরাহ সংকটের ব্যাপারে সতর্কতাও জারি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ। গত শুক্রবার দেশটি জানায়, ২৮ এপ্রিল থেকে ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রফতানি করবে না। দেশটির অপ্রত্যাশিত এ পদক্ষেপ খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে ভয়াবহ উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এ সিদ্ধান্ত বড় চ্যালেঞ্জ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বৈরী আবহাওয়া ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এমনিতেই চরম অস্থিতিশীল ভোজ্যতেলের বাজার। মহামারীর ধাক্কা কাটতে শুরু করলে পণ্যটির চাহিদা লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। কিন্তু সে অনুপাতে বাড়েনি সরবরাহ। ফলে পণ্যটির দাম বেড়েছে একের পর এক।

মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের মহাপরিচালক আহমেদ পারভেজ গোলাম কাদির বলেন, আমদানিকারক ও রফতানিকারক দেশগুলোকে আগে তাদের প্রাধান্যের জায়গাটি নির্ধারণ করতে হবে। জ্বালানি নাকি খাদ্য—কোন খাতে পাম অয়েলের ব্যবহার করা হবে তা পুনরায় বিবেচনা করা উচিত।

তবে তিনি খাদ্যে পাম অয়েলের ব্যবহার বাড়ানোর প্রতি মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, সাময়িকভাবে বায়োডিজেল হিসেবে পাম অয়েলের ব্যবহার বন্ধ অথবা কমিয়ে দেয়া উচিত। বিপরীতে খাদ্যপণ্য উৎপাদনে পাম অয়েল ব্যবহার জরুরি।

পাম অয়েল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ভোজ্যতেল হিসেবে। তবে বায়োডিজেল ফিডস্টক হিসেবেও এটি ব্যবহার করা হয়।

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ পাম অয়েল বায়োডিজেল হিসেবে ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। গত মাসেই দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্যটির ঊর্ধ্বমুখী দাম সত্ত্বেও এসব ম্যান্ডেট থেকে সরে আসেনি মালয়েশিয়া।

অন্যান্য দেশও পশুর চর্বি ও ভুট্টা এবং সয়াবিনের মতো উদ্ভিজ্জ তেল থেকে বায়োডিজেল উৎপাদন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এসব বায়োডিজেলের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন রোধ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। তাছাড়া বর্তমানে এসব জ্বালানির দামও লাগাম ছাড়া। ফলে বিকল্প পণ্য হিসেবে আগ্রহ বাড়ে বায়োডিজেলে।

তথ্য বলছে, বৈশ্বিক পাম অয়েল সরবরাহের ৩১ শতাংশই আসে মালয়েশিয়া থেকে। দেশটি পাম অয়েল উৎপাদনে বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়। মহামারীর কারণে যে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছিল তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি মালয়েশিয়ার পাম অয়েল উৎপাদকরা।

সম্পর্কিত খবর