প্রধানমন্ত্রী সবার সহযোগিতা চেয়েছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুশৃঙ্খলতায়

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এ জন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ।

তিনি প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না। ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সকল বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন, নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন।

আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপনের কর্মসূচি নিয়েছে। তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপন করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কী ধরণের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপন করা দরকার, এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন- ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে।

কিন্তু এ ধরণের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

‘আমি মনে করি, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ঔষধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপন অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। তবে বৃক্ষরোপণ কিংবা বনায়নই শেষ কথা নয় বরং এই বনায়ন, পশু পাখি, বিভিন্ন প্রাণী ও কীটপতঙ্গের জন্য নিরাপদ বাসস্থান কিংবা প্রয়োজনীয় আহারের যোগান দিতে পারে কিনা- এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার ক্ষেত্রে পরিবেশবিদ এবং বনবিদগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, গাছপালা ও প্রাণী অর্থাৎ সকল জীব এবং মাটি, পানি ও বায়ু অর্থাৎ জড় পরিবেশ সবকিছুই যাতে স্বাভাবিকভাবে মিলেমিশে থাকতে পারে, বনায়নের মাধ্যমে এমন একটি বাস্তুতন্ত্র বজায় এবং বহাল রাখাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

পরিবেশ এবং বৃক্ষমেলায় উপস্থিতিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, যারা এই বক্তব্য শুনছেন কিংবা পরে হয়তো শুনবেন, আরো একটি বিষয়ের প্রতি আপনাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই; সেটি হলো, নতুন বৃক্ষরোপন অবশ্যই জরুরি। তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

সম্পর্কিত খবর