down of head

বছরের প্রথম জিডিটি নিলামে ঊর্ধ্বমুখী দুগ্ধপণ্যের দাম

বিদায়ী বছরে আকাশচুম্বী ছিল দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক বাজার। এতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে সরবরাহ সংকট। বছরের মাঝামাঝি থেকে গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের নিলামে অব্যাহতভাবে দুগ্ধপণ্যের দাম বেড়েছে। গত বছর শেষ নিলামে পণ্যগুলোর দাম কিছুটা কমলেও নতুন বছর শুরু হয়েছে ঊর্ধ্বমুখিতায়।

গত মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডে দুগ্ধপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার নিয়ে বছরের প্রথম নিলামের আয়োজন করে জিডিটি। এতে ১৫৬ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। জয়ী হয়েছে ১১২ জন। নিলামে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার ৭১০ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার ৬৮৫ টন।

জিডিটি মূল্যসূচক অনুযায়ী, নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম উঠেছে টনপ্রতি ৪ হাজার ২৪৭ ডলার। এর আগের নিলামের তুলনায় গড় দাম বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে চেডার পনিরের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মাখন, মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধ ও ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দামও। তবে ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের দামে কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি।

সব দুগ্ধপণ্যের মধ্যে খামারিরা ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ থেকে সরাসরি মুনাফা অর্জন করেন। নিলামে এ পণ্যের প্রভাবও সবচেয়ে বেশি। সর্বশেষ নিলামে পণ্যটি আগের নিলামের মতোই টনপ্রতি ৩ হাজার ৮৬৬ ডলারে বিক্রি হয়েছে। তবে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৩ ডলার মূল্যে। চেডার পনিরের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। টনপ্রতি ৫ হাজার ৪৮৭ ডলারে পণ্যটি বিক্রি হয়েছে। মাখনের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮৬৮ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৬৫৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৬৬৮ ডলারে। সর্বশেষ নিলামে ল্যাকটোজ ও সুইট হুই পাউডার প্রস্তাব করা হয়নি।

এদিকে টানা দুই বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রবৃদ্ধির পর গত বছরের শেষ দিকে কমতে শুরু করে বৈশ্বিক দুধ উৎপাদন। এটি চলতি বছর উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১৪ সালের পর দুধ উৎপাদনে এমন নিম্নমুখিতা আর দেখা যায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উৎপাদন বিপর্যয়ের কারণে দেখা দিচ্ছে সরবরাহ ঘাটতি। ফলে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক বাজারে। রোবোব্যাংকের প্রান্তিকভিত্তিক বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্য শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কৃষি বাণিজ্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মৌসুমের যে সময়ে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল, ঠিক সে সময়েই নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় দুধ উৎপাদন কমেছে। কোণঠাসা হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর উৎপাদন প্রবৃদ্ধিও।

রোবোব্যাংকের প্রতিবেদনে গত বছর বৈশ্বিক দুধ উৎপাদন ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করার কথা জানানো হয়েছিল। ফলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা বাজারে ভারসাম্য আনতে ব্যর্থ হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদায়ী বছর বিশ্বজুড়ে গোখাদ্যের দাম বেড়েছে লক্ষণীয় মাত্রায়। আবহাওয়াও ছিল দুধ উৎপাদনের জন্য প্রতিকূল। এসব কারণে নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের প্রধান প্রধান দেশে দুগ্ধপণ্য উৎপাদন কমে যায়। নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণপ্রবাহ বাড়লে চলতি বছরও পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

 

সম্পর্কিত খবর