প্রথম প্রজন্মের সাফল্য দ্বিতীয় প্রজন্মের হাতে টেকসই হবে কি
শূন্য থেকে শুরু করে আজ দেশের শীর্ষ সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাদশা টেক্সটাইল। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা বাদশা মিয়া। দ্বিতীয় প্রজন্ম ব্যবসায় যুক্ত হলেও ব্যবসার হাল এখনো পুরোপুরি সন্তানদের ওপর ছেড়ে দেননি বাদশা মিয়া। এমনকি কভিডকালেও নেতিবাচক পরিস্থিতি এড়াতে দিনের পর দিন পড়ে থেকেছেন কারখানায়। ব্যবসার প্রতি নিষ্ঠা ও একাগ্রতায় দেশের পাশাপাশি ব্যবসাকেও নতুন ধাপে উন্নয়নের পথে টেনে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলায় গড়ে তোলা দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে উদ্যোক্তার সন্তান। বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ফিরে এসেছে দ্বিতীয় প্রজন্ম। কারখানা পরিচালনার খুঁটিনাটি শিখে নেয়ার মাধ্যমে গোটা ব্যবসার হাল ধরার জন্য সক্ষম করে সন্তানকে প্রস্তুত করতে চাইছিলেন প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা। কারখানায় পাঠিয়েছিলেন কাজ শেখা শুরু করতে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান পরিবারের অন্য সদস্যরা। এত অর্থ ব্যয়ে দেশের বাইরে শিক্ষাগ্রহণ শেষে শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত হওয়া মেনে নিতে পারছেন না তারা। ফলে এখন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়েই অফিস দেয়া হয়েছে সন্তানকে। এদিকে অপ্রস্তুত সন্তানকে ব্যবসার চালকের আসনে বসানো নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা।
সত্তরের দশকের শেষে রিয়াজ উদ্দিনের হাতে যাত্রা করে পোশাক খাত। আর খাতটি বিকশিত হতে শুরু করে মূলত আশির দশকের মধ্যভাগের পর। অন্যতম পথিকৃত উদ্যোক্তা এম নুরুল কাদেরের প্রচেষ্টায় সহজ নীতি প্রণয়ন হয়, যা পোশাক খাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় আশির দশকেই সাবেক সেনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান সিনহার হাতে গড়ে ওঠে দেশের প্রথম ও এশিয়ার বৃহত্তম অবকাঠমোর পোশাক কারখানা ওপেক্স।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছর শেষে দেশের পোশাক রফতানিবাবদ প্রাপ্ত অর্থমূল্য ছিল ৩ কোটি ১৫ লাখ ডলার। এর ঠিক এক দশক পরে ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছর শেষে পোশাক রফতানির আকার হয় ১৫৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। ২০০৩-০৪ অর্থবছর শেষে রফতানির আকার হয় ৫৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে রফতানি হয় ২ হাজার ৪৪৯ কোটি ১৮ লাখ ডলারের কিছু বেশি। আর সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ পোশাক রফতানি করেছে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের।
১৯৮৩ সালে চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজের হাত ধরে যাত্রা হয় ইভিন্স গ্রুপের। গ্রুপটির ব্যবসায় এখন যুক্ত রয়েছেন তার দুই ছেলে শাহ আদিব চৌধুরী ও শাহ রাঈদ চৌধুরী। এর মধ্যে শাহ আদিব চৌধুরী আর্গন ডেনিমস, আর্গন স্পিনিং ও ইভিন্স টেক্সটাইলসের পর্ষদে পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ভারতের দিল্লির ইআইআইএলএম বিজনেস স্কুলের স্নাতক। শাহ রাঈদ চৌধুরী পরিচালক হিসেবে রয়েছেন আর্গন ডেনিমস, আর্গন স্পিনিং ও ইভিন্স টেক্সটাইলসের পর্ষদে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের পেস ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিবিএ করেছেন। ২০১৩ সালে পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন শাহ রাঈদ চৌধুরী।
শাশা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তার ছেলে শামস মাহমুদ গ্রুপটির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি শাশা গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানি শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। শাশা গার্মেন্টস ও ট্রেড ম্যাট্রিক্স বাংলাদেশেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন শামস মাহমুদ। এছাড়া পরিচালক হিসেবে রয়েছেন গ্রুপটির প্রতিষ্ঠান শাশা স্পিনিংস, শাশা অ্যাপারেলস, শাশা টেলিকম ও ফর্ম আইকন লিমিটেডে। তিনি যুক্তরাজ্যের হারফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসার ওপর সার্টিফিকেশন কোর্সও করেছেন তিনি।
২০০৮ সাল থেকে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন শামস মাহমুদ। তিনি ঢাকা চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেকেই ব্যবসায় ভালো করছেন। এদের অনেকেই দেশের বাইরে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন। কিন্তু এখন বাংলাদেশের ব্যবসার বাস্তবতার সঙ্গে তারা খাপ খাওয়াতে সময় নিচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় প্রজন্ম ব্যবসায় নতুনত্ব আনার বিষয়ে বেশি আগ্রহী। আবার ব্যবসার সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসনের বিষয়েও দ্বিতীয় প্রজন্ম অনেক সজাগ ও সতর্ক। মোহাম্মদী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক বর্তমানে গ্রুপটির অন্যতম পরিচালক। গ্রুপের গার্মেন্টস ব্যবসার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায় তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। টেকনোভিসতা ও ডিজি যাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেডের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। নাভিদুল হক যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক।
এনভয় গ্রুপের যাত্রা হয় প্রকৌশলী কুতুবউদ্দীন আহমেদ ও আবদুস সালাম মুর্শেদীর হাত ধরে। বর্তমানে গ্রুপটির ব্যবসায় দ্বিতীয় প্রজন্ম হিসেবে তাদের সন্তানরাও যুক্ত হয়েছেন। এনভয় গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে প্রকৌশলী কুতুবউদ্দীন আহমেদের দুই সন্তান তানভীর আহমেদ ও সুমাইয়া আহমেদ এবং আবদুস সালাম মুর্শেদীর দুই সন্তান ব্যারিস্টার শেহরীন সালাম ঐশী ও ইশাম সালাম রয়েছেন। তানভীর আহমেদ কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে ডিপ্লোমাও করেছেন। এনভয় গ্রুপের পাশাপাশি তিনি শেলটেক গ্রুপেরও পরিচালক। তিনি ২০১০ সাল থেকে গ্রুপের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রকৌশলী কুতুবউদ্দীন আহমেদের মেয়ে সুমাইয়া আহমেদ ২০১৭ সালে গ্রুপটির পর্ষদে আসেন। তিনি যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর।
আবদুস সালাম মুর্শেদীর মেয়ে ব্যারিস্টার শেহরীন সালাম ঐশী ২০১০ সাল থেকে গ্রুপটির পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিসের ওপর স্নাতকোত্তর করেছেন। পাশাপাশি তিনি লন্ডনের ডার্বি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমার্শিয়াল ল নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। ২০১৭ সালে গ্রুপটির পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আবদুস সালাম মুর্শেদীর ছেলে ইশাম সালাম। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের পোশাক খাতের প্রথম প্রজন্ম অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পোশাক খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করেছেন। প্রথম পর্যায়ে পশ্চিমা দেশে রফতানিতে কোটা ব্যবস্থার সুবিধা পেয়েছিলেন তারা। সেই ব্যবস্থা উঠে গেলে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতিযোগিতা মোকাবেলা করতে হয়েছে প্রথম প্রজন্মকে। নিয়মিত বিরতিতে শ্রমিক অসন্তোষ সামলাতে হয়েছে। একের পর এক কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনা মোকাবেলা করেও শক্ত হাতে ব্যবসার হাল ধরে রেখেছেন তারা। এ ধারাবাহিকতায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অন্যতম বৃহৎ বিপর্যয় রানা প্লাজা ধসের মতো ঘটনাও সামলাতে হয়েছে তাদের। সর্বশেষ বিপর্যয় হিসেবে কভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতেও প্রথম প্রজন্মই সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্বিতীয় প্রজন্ম একেবারেই প্রস্তুত নয়, এটা ঠিক না। বরং দ্বিতীয় প্রজন্ম ব্যবসার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে উঠলে তার দায় নীতিনির্ধারকদের বলে মনে করছেন তারা।
বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, দ্বিতীয় প্রজন্ম প্রস্তুত নয়, এমনটা আমি মনে করি না। বরং আমি বলব, দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকের চিন্তাভাবনা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো বাংলাদেশের গতানুগতিক ব্যবসায়িক চর্চা। এখানে নৈতিক চর্চার বিষয়ে প্রথাগত নিয়ম নিয়ে তাদের অনেক আপত্তি। আবার ব্যবসার নিয়ম থেকে শুরু করে কাঁচামাল, জ্বালানির মূল্য ওঠানামা সবকিছু ব্যবসার প্রতি তাদের নিরুৎসাহিত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, প্রথম প্রজন্ম ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করার তাগিদে নিষ্ঠার সঙ্গে সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ব্যবসা টেনে নিয়ে এসেছেন। আর অধিকাংশেরই দ্বিতীয় প্রজন্ম শিক্ষা গ্রহণ করেছেন দেশের বাইরে। এখন অনেকে দেশে ফিরে কাজে নিয়োজিত হলেও পোশাক খাতের ব্যবসা নিয়ে দ্বিতীয় প্রজন্মের আগ্রহে নানা কারণে ভাটা পড়ছে। ফলে এ খাতের অব্যাহত চাপ মোকাবেলার সঙ্গে ধাতস্থ হওয়ার বিষয়টিও শেখা হচ্ছে না তাদের। আবার পোশাক খাতের ব্যবসায় না থাকলেও অন্যান্য খাতের বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তারা। এক্ষেত্রে তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি, নয়তো এমন খাত যেখানে তুলনামূলক সহজে টাকা আয় করা যায়। সব মিলিয়ে বর্তমান ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বস্ত্র ও পোশাক খাতকে ৫০ বা ৬০ বিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিয়ে যেতে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রস্তুতি নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রথম প্রজন্মের গড়ে তোলা ব্যবসাকে টেকসই করতে তাদের সক্ষমতার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত নেই পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, এটা ঠিক যে দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেরই পোশাক খাতের ব্যবসার অব্যাহত চাপ সামলানোর মানসিকতা এখনো গড়ে ওঠেনি। এর মূল কারণ তাদের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা। বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়লেও বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে কেতাবি শিক্ষার কোনো সম্পর্ক তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে দেশে ব্যবসায় নৈতিক চর্চার অনুপস্থিতি বা বাস্তবতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার শ্রমঘন শিল্পে শ্রমিকদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে দ্বিতীয় প্রজন্মকে। পাশাপাশি আছে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন নিয়মনীতির পরিবর্তন। ফলে বস্ত্র ও পোশাকের ব্যবসায় নিয়েজিত হলেও দ্বিতীয় প্রজন্ম আগ্রহী হয়ে উঠছেন অন্যান্য খাতে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই ব্যবসার হাল ধরে শক্ত হাতে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রস্তুতি না থাকলেও ব্যবসার খুঁটিনাটি ধরতে সমস্যা হয়নি তাদের। কারণ বাবার ছত্রচ্ছায়ায় থেকেই তারা ব্যবসার খুঁটিনাটি শিখে নিয়ে এখন পারদর্শিতার সঙ্গে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছেন। আবার বর্তমানে দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই আছেন যারা মূল ব্যবসা বস্ত্র ও পোশাক খাতের হলেও অন্য ব্যবসার প্রতি বেশি আগ্রহী। এ মানসিকতার বিষয়টি সঠিক বলে আমি মনে করি। কারণ এখন ব্যবসার ধরন বদলাচ্ছে। অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আসছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার দিকেও ঝোঁক বাড়ছে। কাজেই নতুন নতুন খাতে ব্যবসার আগ্রহটাও স্বাভাবিক। ফলে এখন সে আগ্রহটা বিকশিত করার প্রেক্ষাপট তৈরি করাটাও জরুরি।
তবে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রস্তুতিকে প্রথম প্রজন্ম কোনো প্রতিকূলতা মনে না করলেও দ্বিতীয় প্রজন্মই বলছে, প্রস্তুতির ঘাটতির কথা। পোশাক খাতের দ্বিতীয় প্রজন্মের কিছু সদস্য মিলে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বায়লা)। দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটির নেতারা বলছেন, দ্বিতীয় প্রজন্ম পুরোপুরি প্রস্তুত বলা কঠিন হবে। কারণ এখন সময়টাই রূপান্তরের। শুধু কভিড প্রেক্ষাপটের বিষয়ে বলতে গেলে বলা যায় যে মহামারী-পরবর্তী ব্যবসার প্রেক্ষাপট ও গতিপ্রকৃতির অনেক কিছুই প্রথম ও দ্বিতীয় দুই প্রজন্মের জন্য নতুন।
দ্বিতীয় প্রজন্মের আগ্রহ থাকলেও কৌশলগত কিছু বিষয় দ্রুততার সঙ্গে আত্মস্থ করার ক্ষেত্রে তাদের ঘাটতি রয়েছে এমন মত জানিয়ে বায়লা সভাপতি আবরার হোসেন সায়েম বলেন, সামগ্রিকভাবে পোশাক খাতের যে চাপ তা নেয়ার বিষয়ে অনেকের অনাগ্রহ আছে, এ বিষয়টি বাস্তবতা। অব্যাহত চাপের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যবসা কতটুকু টেকসই হবে সেটা অনেক বড় বিষয়। প্রথম প্রজন্ম ক্রেতা ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপ এক হাতেই মোকাবেলা করতে পেরেছেন। দ্বিতীয় প্রজন্ম এ ব্যবস্থাপনাকে আরো সুসংগঠিত করার প্রয়োজন অনুভব করছেন। এ বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয় প্রজন্মকে আরো অনেক কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের দ্বিতীয় প্রজন্ম বেশির ভাগই দেশের বাইরে পড়ালেখা করেছেন। পুঁথিগত শিক্ষার সঙ্গে তারা ব্যবসার বাস্তবতার সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছেন না। অনেকেই আছেন যারা ভাবছেন এত পড়ালেখা করে এসে কারখানা পরিচালনা করব কেন। দুঃখজনক হলেও এ ধরনের মানসিকতার দ্বিতীয় প্রজন্মের পাল্লা বর্তমানে ভারী।


