প্রতারণা, জালিয়াতি ও হয়রানির অভিযোগ মেটলাইফের বিরুদ্ধে

বিমা দাবি পরিশোধ না করার পাশাপাশি প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে।

বগুড়ার শান্তাহারের বাসিন্দা মরহুম জালাল হোসেনের মেয়ে ও মনোনীত উত্তরাধিকারী (নমিনি) মোছা. চুমকি আক্তার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ২৬ জুলাই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে বলেন, তার বাবার মৃত্যুর প্রায় চার বছর পার হলেও এখনো বিমা দাবির অর্থ পাননি তিনি। বরং ৪৪ লাখ টাকার দাবির বিপরীতে মাত্র ৪৪ হাজার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আইনি নোটিশ পাঠানোর পর মেটলাইফের মতিঝিল কার্যালয়ে গেলে ‘আলি’ নামে এক কর্মকর্তা তাকে মামলা না করার পরামর্শ দিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। পরে তার নতুন ব্যাংক হিসাব নম্বরও সংগ্রহ করা হয়।

তার দাবি, পরবর্তী সময়ে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে জানতে পারেন, ৪৪ লাখ টাকার মূল বিমা দাবির পরিবর্তে মাত্র ৪৪ হাজার টাকা পরিশোধের কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তা বলেন, ওই টাকাই তার হিসাবে জমা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে চুমকি আক্তার বলেন, ‘আমি কখনো ৪৪ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য সম্মতি দিইনি। এটি ছিল শুধু জমা দেওয়া প্রিমিয়ামের অর্থ। অথচ কৌশলে কম টাকায় পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে।

চুমকি আক্তারের দাবি, তিনি কখনোই ৪৪ হাজার টাকা গ্রহণে সম্মতি দেননি। তার মতে, এই অর্থ ছিল কেবল তার বাবার পরিশোধ করা দুটি কিস্তির সমপরিমাণ, বীমার প্রকৃত দাবি নয়। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বীমা পলিসির মূল কাগজপত্র ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন। এমনকি পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়; তাকে ফোনে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে চুমকি আক্তার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং মরহুম জালাল হোসেনের ৪৪ লাখ টাকার পূর্ণ বীমা দাবি দ্রুত পরিশোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে বীমাগ্রহীতার পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর