পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা জরুরি
পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন এ বিষয়ক বিশেষ ওরিয়েন্টেশনে অংশ নেওয়া বক্তারা।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় সহায়তা দিতে বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে ‘আনএমপ্লয়েড ওয়ার্কার্স প্রটেকশন প্রোগ্রাম’ (ইউডব্লিউপিপি) ও ‘লেবার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এলআইএমএস) বিষয়ক দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিএমইএ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থায়িত ‘টিএ-এসপিবিএস’ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
বিজিএমইএর সদস্য কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও এইচআর কর্মকর্তাদের ইউডব্লিউপিপির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, সুবিধাভোগীর যোগ্যতা, নিবন্ধন এবং ডিজিটাল শ্রম তথ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া ছিল কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য।
কর্মশালায় বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও সেন্ট্রাল ফান্ডের পরিচালক তাহমিনা বেগম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক আল আমিন, জিআইজেডের উপদেষ্টা মাহবুবুল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়িত টিএ-এসপিবিএস প্রকল্পের ম্যানেজার ভ্যালেন্টিনা এবং অর্ধ শতাধিক কারখানার এইচআর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিজিএমইএ পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা বলেন, পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। সংকটে পড়া শ্রমিকদের সহায়তায় সেন্ট্রাল ফান্ডের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া বেকারত্ব বা সংকটে শ্রমিকদের সময়মতো সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
টিএ-এসপিবিএস প্রকল্পের ম্যানেজার ভ্যালেন্টিনা শ্রমিক সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালী করতে শিল্প, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাময়িক অর্থনৈতিক সংকটে পড়া শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
তাহমিনা বেগম ইউডব্লিউপিপির সুবিধা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় শুরু হওয়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিমার্জিত রূপ এ কর্মসূচি।
সেন্ট্রাল ফান্ডের অধীনে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে কারখানা বন্ধ, দুর্ঘটনা বা মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে সাময়িক কর্মহীন শ্রমিকদের জিটুপির মাধ্যমে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ তিন মাস সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় ইউডব্লিউপিপির আবেদন ও সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল শ্রম তথ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়। ভুলের কারণে প্রকৃত দুস্থ শ্রমিক যেন সুবিধাবঞ্চিত না হন, সে জন্য কারখানার পে-রোল ও এনআইডি তথ্য নির্ভুল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
জিআইজেডের উপদেষ্টা মাহবুবুলের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালা শেষ হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিজিএমইএর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সেকশন ইনচার্জ ও ডেপুটি সেক্রেটারি শায়লা আক্তার নোভা।



