বললেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
পাটজাত পণ্য রফতানি আয় দ্বিগুণ করতে চাই
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ১ বিলিয়ন ডলারের পাটজাত পণ্য রফতানি করছে। আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে পাটজাত পণ্য রফতানি আয় দ্বিগুণ করে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করব।’
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে অ্যাম্বিয়েন্তে ২০২৪ প্রদর্শনীতে স্থাপিত ইপিবির বুথে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন (জেডিপি) সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক গোপাল চন্দ্র দাশ, দূতাবাসের কমার্শিয়াল মিনিস্টার সাইফুল ইসলাম, আম্বিয়ান্তে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত উদ্যোক্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। রফতানি পণ্য হিসেবে শুধু গার্মেন্ট পণ্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বহুমুখী পাটজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।’
আয়োজকরা জানান, মেলায় বর্তমানে ৫৮জন বাংলাদেশী প্রদর্শক দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। হল ১২.০ (ডাইনিং) এ প্যারাগন সিরামিকস, আর্টিসান সিরামিকস এবং প্রতীক সিরামিকসের মতো ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের পণ্যগুলো প্রদর্শন করার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়াও বিডি ক্রিয়েশন, প্রকৃতি, ঢাকা হ্যান্ডিক্রাফ্টস, আরএফএল প্লাস্টিক এবং গোল্ডেন জুটসহ অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদর্শনী হল ১০.১, ১০.৪, ১১.০ এবং ১১.১ (গিভিং অ্যান্ড লিভিং) এ প্রদর্শিত হবে। এ প্রদর্শনী আগামী ৩০ জানুয়ারি শেষ হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি মেলায় বাংলাদেশ, ভারতসহ অন্যান্য দেশের স্টল পরিদর্শন করেছি। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের পাটজাত পণ্যের ডিজাইন ও নিউ ট্রেন্ড দেখেছি। আমি খুবই আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্য করেছি, আমাদের অনেক উদ্যোক্তা চমৎকার পরিবেশবান্ধব পণ্যসামগ্রী নিয়ে মেলায় এসেছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৪৮ জন উদ্যোক্তা মেলায় তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। ইপিবির সহযোগিতায় এখানে এসেছে ১১ জন উদ্যোক্তা।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশে গিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী মেলায় আরো বেশি উদ্যোক্তা নিয়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। প্রয়োজনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রণোদনা ও সরকারি সহযোগিতায় জার্মানিসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে মেলায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করব। জার্মানির মেলায় এসে এটা অনুধাবন করতে পেরেছি যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ ছাড়া রফতানি আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।’



