down of head

পতন থামছেই না পুঁজিবাজারে

দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন অব্যাহত রয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলমান দরপতন ঠেকাতে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ (বিএসইসি)। এর মধ্যে রয়েছে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির শেয়ারের মূল্য হ্রাসের নতুন সীমা সর্বোচ্চ তিন শতাংশ বেঁধে দেয়া এবং আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের নন-মার্জিন লিমিট ৪০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা। এতেও দরপতন থামেনি পুঁজিবাজারে। উল্টো গত তিন মাসের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক কমেছে এক হাজার পয়েন্টের বেশি। আর সর্বশেষ ১৬ দিনের মধ্যে দুই দিন বাদে বাকি দিনগুলোয় সূচকের পতন হয়েছে। এই ১৪ দিনে সূচক কমেছে ৫৯৩ পয়েন্ট। এমন দরপতনে সৃষ্ট আস্থার সংকটে পুঁজিবাজার ছাড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।

 বুধবারও ডিএসইর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে সবকটি মূল্যসূচক। এতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স তিন বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। সূচকটি এখন ৩৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের ১০ মিনিটের মাথায় সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা পাঁচ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। বরং লেনদেনের সময় যত গড়িয়েছে, দরপতনের মাত্র তত বেড়েছে। এতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮৬টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫০ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ২২৮ পয়েন্টে নেমে গেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩০৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৪০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ১৩৪ কোটি পাঁচ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪ কোটি এক লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিচ হ্যাচারির ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ফার্মা। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑওরিয়ন ইনফিউশন, লাভেলো আইসক্রিম, ক্যাপটিক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড, আইএফআইসি ব্যাংক, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট ও বেস্ট হোল্ডিং।

অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৫৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৭টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে সাত কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১৭০ কোটি চার লাখ টাকা।

এন এস

সম্পর্কিত খবর