নয় বছরের সর্বোচ্চ গম আবাদ কানাডায়

চলতি বসন্তে কানাডার কৃষকরা নয় বছরের সর্বোচ্চ গম আবাদ করেছেন। বিশ্বব্যাপী শস্যটির সরবরাহ সংকট খাদ্যশস্য ও খাবারের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে আবাদ বাড়ানো হয়েছে। দেশটির সরকারি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্ট্যাটিসটিকস কানাডার দেয়া তথ্যমতে, প্রতি বসন্তে দেশটির কৃষকরা যে পরিমাণ গম ও ক্যানোলা (এক ধরনের তেলবীজ) আবাদ করেন, এবার তার চেয়ে অনেক বেশি করেছেন। তবে শুষ্ক আবহাওয়া কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কী পরিমাণ জমি অনাবাদি থাকবে তা আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ খাদ্যশস্য রফতানিকারক দেশ। সিংহভাগ শস্যই সমুদ্রবন্দর দিয়ে রফতানি করে এ দেশ। কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশটির কৃষ্ণ সাগরীয় সমুদ্রবন্দর রুশ সামরিক বাহিনী অবরোধ করে রেখেছে। ফলে রফতানিতে ধস নেমেছে। ইউক্রেনের গুদামগুলোয় আটকে আছে বিপুল পরিমাণ গম ও সূর্যমুখী তেল। এ কারণে বিশ্ববাজারে সংকট মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অব্যাহত বাড়ছে দাম।

কানাডাও অন্যতম শীর্ষ গম ও ক্যানোলা রফতানিকারক। গত বছর ভয়াবহ খরার কারণে দেশটির কৃষিপণ্য আবাদ ও উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ বছর খরার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশটি। এর মধ্য দিয়ে দেশটি বৈশ্বিক ঘাটতি কিছুটা হলেও মেটাতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা।

স্ট্যাটিসটিকস কানাডার তথ্য বলছে, ২ কোটি ৫৪ লাখ একর জমিতে গম আবাদ করা হয়েছে। ২০১৩ সালের পর এটি সর্বোচ্চ। এছাড়া গত এপ্রিলে দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে এটি কিছুটা বেশি। ওই সময় ২ কোটি ৫০ লাখ একর জমিতে গম আবাদ করা হয়েছিল। এবার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৯ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, কৃষকরা ২ কোটি ১৪ লাখ একর জমিতে ক্যানোলা আবাদ করেছেন। এটি প্রত্যাশিত ২ কোটি ৯ লাখ একরের চেয়েও বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার কানাডায় বিপুল পরিমাণ জমিতে গম আবাদ হয়েছে। তবে কী পরিমাণ জমি অনাবাদি থাকবে তার ওপর নির্ভর করছে উৎপাদন।

স্ট্যাটিসটিকস কানাডা বলছে, এবার ১৮ লাখ একর জমি অনাবাদি থাকতে পারে। এপ্রিলে দেয়া পূর্বাভাসে ১৬ লাখ একরের কথা বলা হয়েছিল। সে হিসাবে অনাবাদি জমির পরিমাণ বাড়বে।

সম্পর্কিত খবর