নিলামে সবচেয়ে বেশি দর বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের গাড়ি
চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আয়োজনে পঞ্চমবারের মতো নিলামে ১১২টি গাড়ি তোলা হয়। এর মধ্যে ১১০টি গাড়ি কেনার জন্য ৫৫১টি দর জমা দিয়েছিল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। পর্যটন সুবিধায় আনা পুরনো এসব গাড়ির প্রতি ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ বাড়লেও কিছু গাড়ির দর বেশি ওঠেনি। এর মধ্যে বিএমডব্লিউ গাড়ির দর উঠেছে সবচেয়ে বেশি। শীর্ষ দর পাওয়া চারটি গাড়িই বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের।
গত ৩ থেকে ৪ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী অনলাইনে ও দেশের পাঁচটি নির্ধারিত স্থানে অনুষ্ঠিত নিলামের তালিকা গতকাল প্রকাশ করে নিলামের চট্টগ্রাম কাস্টমস। এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি দর পাওয়া গেছে বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির। চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকার ফারজানা ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ দর দিয়েছে। গাড়িটির সংরক্ষিত মূল্য ছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রায় তিন হাজার সিসির এ গাড়ি নির্মাণ হয়েছিল ২০০৭ সালে। গাড়িটির চাবি নেই। ব্যাটারি ও চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য সবকিছু ভালো আছে। প্রায় আড়াই হাজার সিসির বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের আরেকটি গাড়ির দর পড়েছে ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া ৪৬ লাখ ও ৪৩ লাখ টাকা দর পাওয়া গেছে দুটি গাড়ির। তবে দুই দশকের বেশি পুরনো বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের গাড়ির দর খুব বেশি পড়েনি। মরিচা ধরা ২১ বছরের পুরনো বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির দর পড়েছে দেড় লাখ টাকা। আরেকটি গাড়ির দর পড়েছে ৩ লাখ টাকা। মিতসুবিশি সোগান ব্র্যান্ডের একটি গাড়িতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে একজন।
ল্যান্ড রোভার ব্র্যান্ডের একেকটি গাড়ির দর পড়েছে ১২ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা। যদিও একেকটি গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। চার-পাঁচ বছর আগে কোটি টাকার বেশি দরও উঠেছিল। এ ব্র্যান্ডের একেকটি গাড়ির দর পড়েছে ১২ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা।
এবার নিলামে তোলা ১১২টি গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য ছিল ১৮০ কোটি টাকা। গাড়ির আমদানি মূল্য ও অবচয় সুবিধা ধরে শুল্ককরসহ মোট দাম হলো সংরক্ষিত মূল্য। সাধারণত প্রথম নিলামে সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশের বেশি না হলে বিক্রির অনুমোদন দেয় না কাস্টমস। তবে দ্বিতীয় নিলামে প্রথম নিলামের চেয়ে বেশি দর এবং তৃতীয় নিলামে যেকোনো দর অনুমোদন দেয়ার সুযোগ আছে কাস্টমসের। এবার যেহেতু পঞ্চম নিলাম, তাই যেকোনো দর অনুমোদন দিতে পারে কাস্টমস।
কাস্টমসের উপকমিশনার মো. আল আমিন বলেন, নিলামে যৌক্তিক দর পর্যালোচনা করে নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দেয়া হবে। যেগুলো বিক্রির অনুমোদন দেয়া হবে না সেগুলোও পুনরায় নিলামে তোলা হবে। নিলামে যাদের অনুমোদন দেয়া হবে তাদের গাড়ি খালাসে ১৭ শতাংশ কর দিতে হবে। আবার যেসব গাড়ি পাঁচ বছরের বেশি পুরনো অবস্থায় আমদানি হয়েছে, সেগুলোর জন্য লাগবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রও। শুধু ১৫টি গাড়ি তৈরির পাঁচ বছরের কম সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র লাগবে না।


