দুই স্টক এক্সচেঞ্জের আরএডি কর্মীদের বদলির নির্দেশ বিএসইসির

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (আরএডি) কর্মীদের বদলির আদেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ডিভিশনটির অধীনে ছয়টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি বাদে বাকি পাঁচ বিভাগে যেসব কর্মী তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে কর্মরত তাদের বদলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে আরএডির আওতাধীন করপোরেট গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কমপ্লায়েন্স বিভাগ ছাড়া বাকি পাঁচ বিভাগের কর্মীদের দপ্তর বদল করতে বলা হয়েছে। এই পাঁচ বিভাগের মধ্যে রয়েছে সার্ভিল্যান্স, মনিটরিং অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট, লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স ও ইনভেস্টর কমপ্লেইন্টস, আরবিট্রেশন অ্যান্ড লিটিগেশন বিভাগ।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জের আরএডিতে কর্মরত কর্মীদের বদলির কারণ হিসেবে কমিশন সূত্র বলছে, এ ডিভিশনের আওতাধীন বিভাগগুলোর কার্যক্রম বেশ স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিভাগে কর্মীদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এখানে কর্মরত রয়েছেন। অনেকদিন ধরেই পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য লেনদেন চলাকালে ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের এসব বিভাগে কর্মরতদের কেউ কেউ এ তথ্য ফাঁসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকেও এ বিষয়ে বিএসইসির কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এ কারণে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আরএডিতে যারা তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন তাদের বদলি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তথ্য ফাঁসের সঙ্গে কোনো কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে সেক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ বিভাগগুলোয় অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। কর্মীদের পেশাগত উন্নয়নের স্বার্থে অন্যান্য বিভাগের কাজ সম্পর্কেও তাদের সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ কারণে কমিশন থেকে যারা তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন তাদের দপ্তর পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরএডির কার্যক্রম স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই এখানে তাদের অনুগত কর্মীদের নিয়োগ করতে চায়। বিভিন্ন সময়ে এ বিভাগে প্রভাবশালীদের আস্থাভাজন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে। পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এসব বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একজন পর্ষদ সদস্য বণিক বার্তাকে বলেন, কমিশন তার আইনি ক্ষমতাবলে কর্মীদের বদলির নির্দেশ দিয়েছে। এটি আমাদের পরিপালন করতেই হবে। তবে কর্মীদের একসঙ্গে বদলি করা হলে বিভাগের কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। তাই পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়ন করার পক্ষে তারা।

এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ কমিশনের এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণে আজকে বৈঠক করবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ডিএসইর কর্মীদের বিষয়ে মানবসম্পদ মূল্যায়ন কমিটির একটি প্রতিবেদন এক্সচেঞ্জটির পর্ষদে উত্থাপন করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে ডিএসইর পর্ষদের কাছে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এক্সচেঞ্জটির সব কর্মীর নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই করে দেখতে হবে, এক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি হয়েছে কিনা। এক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জটির প্রভাবশালী কারো সঙ্গে কর্মীদের কোনো ধরনের সম্পর্ক রয়েছে কিনা সেটি দেখতে হবে। প্রতি বিভাগের প্রধানদের কাছে তাদের অধীনদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি অর্জনের বিষয়টি যাচাই করতে হবে। ডিএসইর মূল কার্যক্রমের পাশাপাশি যেসব অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। সব কর্মীর পেশাগত দায়িত্বের বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। পেশাগত সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির বিষয়টি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে যাচাই করে দেখতে হবে। একটি সেন্ট্রাল সিনিয়রিটি রোলের মাধ্যমে কর্মীদের জ্যেষ্ঠতা, পদায়ন, পদোন্নতি ও পেশাগত উন্নয়নের বিষয়টি নির্ধারণ করা যেতে পারে। কর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্বে সামঞ্জস্যতা থাকতে হবে। কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে দ্বিবার্ষিক ভিত্তিতে ম্যানেজমেন্ট ইন্টারনাল অডিট ও ইন্টারনাল ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্রোল অডিট করার সুপারিশ করেছিল কমিটি।

সম্পর্কিত খবর