তীর রক্ষা ও জেটি নির্মাণে ৩৯৫ কোটি টাকা অনুমোদন
যমুনা নদীর তীর রক্ষায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ১ হাজার ৬২৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজে ১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে, কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরংয়ে আরসিসি জেটি ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণে ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়নাধীন ‘যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১ : নদীতীর সংরক্ষণ ও নদী শাসন (কম্পোনেন্ট-১)’ প্রকল্পের প্যাকেজ ডব্লিউডি-৩-এর আওতায় এ কাজ করা হবে। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের ঋণ অর্থায়ন রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় কালিহাতী উপজেলায় পার্মিয়েবল গ্রোয়েন ও টপ ব্লক পার্মিয়েবল গ্রোয়েন নির্মাণের মাধ্যমে ১ হাজার ৬২৫ মিটার নদীতীর রক্ষা করা হবে। এতে ছয়টি তিন সারি পাইলের গ্রোয়েন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি ক্রয়ের জন্য ওয়ান স্টেজ টু এনভেলপ টেন্ডারিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এতে মোট পাঁচটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। সবগুলো দরপত্রই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।
দরপত্র মূল্যায়ন শেষে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী জয়েন্ট ভেঞ্চার অব (১) আরবিসিজি, চায়না এবং (২) এনডিই, বাংলাদেশ-এর কাছ থেকে কর ও ভ্যাটসহ মোট ১৮০ কোটি টাকায় পূর্ত কাজটি ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী শাসনের মাধ্যমে নদীভাঙন কমানো এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার অবকাঠামো ও জনবসতি সুরক্ষার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ ও টেকনাফ (সাবরং ও জালিয়ার দ্বীপ) অংশে জেটিসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় এ কাজ করা হবে।
প্রকল্পের অধীনে ‘কনস্ট্রাকশন অব আরসিসি জেটি উইথ অ্যালাইড ওয়ার্কস অ্যাট সাবরং, টেকনাফ, কক্সবাজার’ শীর্ষক পূর্ত কাজের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে তিনটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তিনটি দরপত্রই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।
দরপত্র প্রক্রিয়ার সব ধাপ শেষে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির (টিইসি) সুপারিশের ভিত্তিতে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, ঢাকার কাছ থেকে কাজটি কেনার প্রস্তাব করা হয়। ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ এ কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা। এ অর্থ সরকারি অর্থ (জিওবি) থেকে ব্যয় করা হবে।
জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সন্দ্বীপ এবং কক্সবাজারের সোনাদিয়া, টেকনাফের সাবরং ও জালিয়ার দ্বীপ এলাকায় জেটিসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।



