তিন প্রান্তিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়েছে ১৪ শতাংশ
চলতি ২০২১ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। চলতি হিসাব বছরের সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্যাংকটির পর্ষদ।
ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম তিন প্রান্তিকে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বেশি। আগের বছর একই সময় যা ছিল ৩৪৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বেশি। সেই হিসাবে আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে ৪৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বা ১৪ দশমকি ৩৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ২৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৫ টাকা ৮৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ৪৭ টাকা ৬৩ পয়সা।
অন্যদিকে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৯ কোটি টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ১২৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৬৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৫ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ১০ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৮৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ শেষে প্রতিষ্ঠানটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৫৮ টাকা ৬৫ পয়সা, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৪৯ টাকা ৯০ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।
সর্বশেষ রেটিং অনুযায়ী ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত ও গত বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।
২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৮ টাকা ৬৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ৪০ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৫৪ টাকা ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৪৬ টাকা ১৭ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।
২০১৮ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। ২০১৭ ও ২০১৬ হিসাব বছরে ৩০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা।
২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৬৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৫৯ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৩ কোটি ২৫ লাখ। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৮৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ১ ও বাকি ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শেয়ার সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৭৯ টাকা ২০ পয়সা। এদিন শেয়ারটি ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৮০ টাকায় লেনদেন হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল ৫৬ টাকা ৯০ পয়সা ও ৯৭ টাকা ৭০ পয়সা।
সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত ৭ দশমিক ৯২, হালনাগাদ প্রান্তিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ৯ দশমিক ৫।


