সব কর অঞ্চলে উৎসে কর নজরদারি টিম গঠন নির্দেশ
করদাতাদের আয়কর বিবরণী এবং টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ৬ আগস্ট এনবিআর এ নির্দেশনা দিয়েছে।
এতে বলা হয়, প্রতিটি কর অঞ্চলে উৎসে কর পরিবীক্ষণ টিম গঠন করতে হবে। এতে পরিদর্শন রেঞ্জ-১-কে আহ্বায়ক, পরিদর্শন রেঞ্জ-২/৩/৪-কে যুগ্ম আহ্বায়ক, উপ/ সহকারী/ অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনারকে টিম লিডার এবং কর পরিদর্শকদেরকে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে।
উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ এবং রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (পিএসআর) ও টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র দাখিলের আইনি বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ একই হলে, উৎসে কর পরিবীক্ষণের দায়িত্বে থাকা টিমকেই এই পরিবীক্ষণেরও দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এছাড়া রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (পিএসআর) ও টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অর্থবছরের শুরুতেই অর্থ আইন ও আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৪-সহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি এনবিআরকে অসহযোগিতা করলে ধারা ৩১৮ অনুযায়ী দণ্ড এবং নির্দেশ পরিপালন না করলে ধারা ২৬৪ অনুযায়ী জরিমানার বিষয়টি জানিয়ে সতর্ক করা ও যথাযথ প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী করদাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সর্বশেষ কর বছরের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (পিএসআর) যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতাকে সেবা দেওয়ার আগেই প্রতিটি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ etaxnbr.gov.bd-এর পিএসআর ভেরিফাই সিস্টেম থেকে বাধ্যতামূলক যাচাই করতে হবে। একইভাবে, টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্রের সঠিকতা সরাসরি incometax.gov.bd অথবা বারকোড স্ক্যানারের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও, বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ছকে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ ও টিআইএন সনদ যাচাই সংক্রান্ত স্বাক্ষরিত তথ্য লিখিতভাবে নেওয়া হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, ট্রাস্ট ইত্যাদির উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ যাচাইয়ের সময়ও পিএসআর ও টিআইএন প্রত্যয়নপত্র যাচাই করতে হবে। আইনটির ১৪২ ধারা অনুযায়ী, সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে পিএসআর উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে তার ওপর প্রযোজ্য উৎসে কর হারের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় করা হবে।
বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘কর জরিপ ও পরিদর্শন শাখা’য় প্রতি মাসের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে এনবিআরের প্রেরিত ছক অনুসারে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী নিজ এখতিয়ারের মধ্যেই পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এখতিয়ারবহির্ভূত পরিবীক্ষণ এবং এনবিআরে তথ্য প্রেরণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


