তথ্যত্রাস বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও সামাজিক সংকট
আধুনিক বিশ্বে ‘তথ্যত্রাস’ এক অন্যতম বড় নৈতিক ও সামাজিক সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। প্রযুক্তির অবাধ প্রসারের যুগে প্রযুক্তি নিজে এই সংকটের মূল কারণ না হলেও এর অপব্যবহার, অসত্যতা, অজ্ঞতা, দায়িত্বহীনতা এবং দ্রুত প্রচারের সংস্কৃতি এর ব্যাপ্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘চিন্তা ভাবনা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্ড রির্সাচের (আইপিডিআর) সহযোগিতায় আয়োজিত ‘জাতীয় সিরাত সেমিনার’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।
চিন্তা ভাবনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. আ ম ম নেছার উদ্দীনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। এছাড়া গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ছাইফুল আলম।
সেমিনারে ‘তথ্য সমকালের মূল্যোৎপাটনে রাসুল (সা.)-এর অবদান ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অফস্পেস প্রফেসর ড. আ ক ম আবদুল কাদের। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যত্রাস আধুনিক বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও সামাজিক সংকট। প্রযুক্তি নিজে এ সংকটের মূল কারণ নয়; বরং প্রযুক্তির অপব্যবহার, অসত্যতা, অজ্ঞতা, দায়িত্বহীনতা এবং দ্রুত প্রচারের সংস্কৃতি এর ব্যাপ্তি বহুগুণ বাড়িয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “তথ্যত্রাসের মূল্যোৎপাটন কেবল প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সম্ভব নয়; প্রয়োজন তাকওয়াতান্ত্রিক তথ্যসংস্কৃতি। প্রত্যেক ব্যক্তি যদি তথ্য গ্রহণ ও প্রচারের আগে তার সত্যতা, প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা এবং সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করেন, তাহলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়েই তথ্যত্রাস উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব।”
সেমিনারে আরও আলোচনা পেশ করেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. হেদায়েত উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গবেষক, শিক্ষক ও আলেম-ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনার শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।



