ডিএসই ইস্যুতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেআইনি ও একতরফাভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ এনে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন করেছেন সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আব্দুল লতিফ। তার ওই আবেদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। উপসচিব ফারজানা জাহানের সই করা চিঠিটি বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডিএসইর সাবেক ডিজিএম মো. আব্দুল লতিফ ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) কর্তৃক বেআইনি ও একতরফা চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন’ শীর্ষক একটি আবেদন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দেন।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রও চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
চিঠির অনুলিপি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব, অতিরিক্ত সচিব (বীমা ও পুঁজিবাজার অনুবিভাগ) এবং আবেদনকারী মো. আব্দুল লতিফের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
কোনো ধরনের অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই গত ২৫ জুন ডিএসইর জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের ডিজিএম মো. আব্দুল লতিফ ও হোসনে আরা পারভীন, আইসিটি বিভাগের জিডিএম শাহিন সারওয়ার এবং ইনভেস্টর প্রকেক্টশন ফান্ডের সমন্বয়ক ডিজিএম আব্দুর রাজ্জককে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এরপর ৫ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি আবেদন করেন আব্দুল লতিফ। এই আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৫ জুন ডিএসই কর্তৃপক্ষ কোনো পূর্ব নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শুধুমাত্র ‘পদের আর প্রয়োজনীয়তা নেই’ এই কারণ দেখিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করে।
আবেদনে মো. আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে ডিএসইতে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকরিকালে তার কর্মদক্ষতা ও আচরণের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। এমন অবস্থায় কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ বা শুনানির সুযোগ ছাড়াই চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত শ্রম আইন, চাকরির বিধিমালা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নীতিমালার পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের একজন স্থায়ী কর্মকর্তাকে এভাবে আকস্মিক অব্যাহতি দেওয়া শুধু আইনবিরোধী নয়, মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন। এই সিদ্ধান্তের কারণে তিনি ও তার পরিবার আর্থিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ও তার দীর্ঘদিনের পেশাগত এবং সামাজিক সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিএসইর কাছ থেকে এ ধরনের অস্বচ্ছ ও আইনবহির্ভূত আচরণ প্রত্যাশিত নয়।
এ পরিস্থিতিতে তিনি ডিএসইর চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বাতিল, চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ তাকে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার পদে পুনর্বহালের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনক চিঠি দিলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।


