টানা তিন মাসের মতো কমেছে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্য
জুনে টানা তিন মাসের মতো কমে এসেছে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক দাম। মূল্যহ্রাস সত্ত্বেও খাদ্যপণ্যের দাম মার্চে থাকা রেকর্ড উচ্চমূল্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানায় জাতিসংঘের খাদ্যবিষয়ক সংস্থা ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও)। গতকাল প্রকাশিত এফএওর ফুড প্রাইস ইনডেক্সে এমনটা দেখা যায়।
গত মাসে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ছিল ১৫৪ দশমিক ২ পয়েন্ট, যা মে মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৩ শতাংশ কম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৯ পয়েন্ট বা ২৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। মে মাসে সংশোধিত মূল্যসূচকের পরিমাণ ছিল ১৫৭ দশমিক ৯ পয়েন্ট, ওই মাসের জন্য প্রাথমিক মূল্যসূচক ছিল ১৫৭ দশমিক ৪ পয়েন্ট। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান, প্রতিকূল আবহাওয়া, শক্তিশালী বৈশ্বিক চাহিদা এবং উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে ঊর্ধ্বগতির ফলে এমনটা দেখা গেছে। এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেরো কুলেন বলেন, যে পরিস্থিতিগুলো খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক দামকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে এসব পরিস্থিতি এখনো চলমান।
জুনে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক কমেছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ বা ৭ দশমিক ২ পয়েন্ট, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৩৬ পয়েন্ট বেশি। এফএও জানায়, উত্তর গোলার্ধে নতুন মৌসুমি ফসল উৎপাদন, উল্লেখযোগ্য শস্য উৎপাদকারী কয়েকটি দেশে শস্যের পরিমাণ বৃদ্ধি ও রাশিয়ায় উচ্চ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কারণে জুনে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক কিছুটা কমে এসেছে।
গত মাসে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক মাসিক ভিত্তিতে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমে এসেছে। উল্লেখযোগ্য উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশে মৌসুমি উৎপাদন বৃদ্ধি ও ইন্দোনেশিয়া থেকে সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রার কারণে এমনটা হয়েছে। জুনে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক দাঁড়ায় ২১১ দশমিক ৮ পয়েন্ট, যা মে মাসের তুলনায় ১৭ দশমিক ৪ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কম। জুনে টানা তিন মাসের মতো পাম অয়েলের দাম কমে আসার কারণেও ভোজ্যতেলের মূল্যহ্রাসে প্রভাব রাখে বলে জানায় এফএও।
মে মাসের তুলনায় জুনে চিনির দাম কমে আসে ৩ দশমিক ১ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬ শতাংশ। জুনে চিনির মূল্যসূচক দাঁড়ায় ১১৭ দশমিক ৩ পয়েন্ট। ফেব্রুয়ারির পর থেকে এটি পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম।
খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল ও চিনির মূল্য কমে এলেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে। জুনে মাংস ও দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে। গত মাসে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক ৪ দশমিক ১ শতাংশ বা ৫ দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৯ দশমিক ৮ পয়েন্ট, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট বা ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও চিজের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এমনটা দেখা যায়। এছাড়া স্পট মার্কেটে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
জুনে মাংসের মূল্যসূচক ২ দশমিক ১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১২৪ দশমিক ৭ পয়েন্ট, যা যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট বা ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বিশ্বব্যাপী মাংসের দাম বৃদ্ধি, বিশেষ করে পোলট্রির দাম সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়ার ফলে এমনটা দেখা যায়।
শস্য সরবরাহ ও চাহিদাসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে এফএও চলতি বছরের জন্য শস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন বাড়িয়েছে। ২০২২ সালে শস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২৭৯ কোটি ২০ লাখ টন। এটি গত বছরের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ কম। এর আগে চলতি বছরের জন্য শস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল ২৭৮ কোটি ৪০ লাখ টন। ২০২২-২৩ মৌসুমের জন্য খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক ব্যবহারের পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে এফএও। এ মৌসুমে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক ব্যবহার ৯২ লাখ টন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৭৯ কোটি ৭০ লাখ টন, যা ২০২১-২২ মৌসুমের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ কম।


