down of head

ছয় মাসে ৩ হাজার কোটি টাকার সোনা এনেছেন যাত্রীরা

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে গত ছয় মাসে যাত্রীরা বৈধভাবে তিন হাজার ১৬৫ কোটি টাকার বেশি সোনা নিয়ে এসেছেন। ২০২০ সালে সরকার বৈধভাবে বিদেশ থেকে সোনা আনার অনুমতি দেয়।

বার আকারে এসব সোনার বড় অংশ আসছে দুবাই থেকে। শুল্ক পরিশোধ করেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধভাবে ছয় টনের বেশি সোনা নিয়ে এসেছেন।

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট চলাচল পুরোদমে শুরু হয়নি; আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলছে সীমিত পরিসরে।

বিমানবন্দরে কর্মরত চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার সুমন চাকমা বলেন, করোনার প্রভাবেও এরই মধ্যে যে পরিমাণ সোনা এসেছে তা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

‘দুই কারণে বৈধভাবে সোনা আসার পরিমাণ বেড়েছে। এক. সরকার বৈধভাবে আনার সুযোগ দিয়েছে। দুই. অবৈধ সোনার বার আমদানিতে কাস্টমসের কঠোরতা। আমরা যদি কঠোর না হতাম তাহলে শুল্ক দিয়ে এত বেশি সোনা আসত না, সরকারও এত বেশি রাজস্ব পেত না।’

চট্টগ্রাম কাস্টমসের হিসাবে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে ৫২ হাজার ৭৬০টি সোনার বার এসেছে। প্রতিটি সোনার বারের ওজন ১১৭ গ্রাম এই হিসাবে সোনার পরিমাণ ছয় হাজার ১৭২ কেজি। আর এই খাত থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ১০৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

বিমানবন্দর ও কাস্টমস বলছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট শুরু হলেও করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মে, জুন, জুলাই পর্যন্ত ওই তিন মাস যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। সে হিসাবে ফ্লাইট চালু ছিল মাত্র ছয় মাস। আর এই ছয় মাসেই সোনার বার এসেছে ছয় টন ১৭২ কেজি। গড়ে প্রতি মাসে সোনা এসেছে এক টনের বেশি। এর মধ্যে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ এসেছে এক হাজার ৪৮৭ কেজি সোনা।

২০২০ সালের সঙ্গে ২০২১ সালের তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২০ সালের সাত মাসে বৈধভাবে সোনার বার এসেছে দুই হাজার ৭১৫ কেজি। এর বাজারমূল্য এক হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৪৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। যদিও ২০২০ সালে দেশে করোনা মহামারি হলে পাঁচ মাস ফ্লাইট বন্ধ থাকে। চলতি বছরের বাকি সময় ফ্লাইট চলাচল করতে পারলে সোনা আমদানির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে।

বাজারমূল্য তিন হাজার ১৬৫ কোটি টাকা

দেশে বৈধভাবে সব সোনা ঢুকছে বার হিসেবে; স্বর্ণালংকার হিসেবে খুবই কম। ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বারের বাজারমূল্য ছয় লাখ টাকা। ২০২১ সালে আসা ছয় টন ১৭২ কেজি সোনার বাজারমূল্য দাঁড়ায় তিন হাজার ১৬৫ কোটি টাকা।

কিভাবে বৈধ হচ্ছে সোনার বার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বৈধ পথে দুইভাবে সোনা আমদানি করা যায়। ২০১৮ সালের স্বর্ণ নীতিমালার আওতায় লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে সোনা আমদানি করতে পারে। আবার ব্যাগেজ রুলের আওতায় একজন যাত্রী বিদেশ থেকে ফেরার সময় ঘোষণা দিয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম ওজনের অর্থাৎ দুটি সোনার বার নিয়ে আসতে পারেন।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কাস্টমসের কর্মকর্তা স্বপন মজুমদার বলেন, একজন যাত্রী ঘোষণা দিয়ে সর্বোচ্চ দুটি সোনার বার ৪০ হাজার ১২৪ টাকা শুল্ক পরিশোধ করে আনতে পারবেন। এর বাইরে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বিনা শুল্কে আনতে পারবেন, তবে সেটি ২২ ক্যারেটের হতে হবে। ২৪ ক্যারেট হলে শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

এত বেশি সোনা আসার কারণ

২০১৮ সালের স্বর্ণ নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশে প্রতিবছর নতুন সোনার চাহিদা ১৮-২৬ টন। এ হিসাবে প্রতি মাসে সোনার চাহিদা দেড় থেকে দুই টন। এই চাহিদার বেশির ভাগ অবৈধভাবে আমদানি করা হতো। এখন সুযোগ দেওয়ায় বৈধভাবেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই কারণে বৈধভাবে সোনা আমদানি বেড়েছে। একটি হচ্ছে, দেশে বিশুদ্ধ সোনার পরিমাণ খুবই কম। দ্বিতীয়ত, একটি সোনার বার শুল্ককর পরিশোধ করে আনার পরও বিক্রি করলে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা লাভ থাকে। সেই আশায়ও অনেকেই বৈধভাবে সোনা আনছেন।

চট্টগ্রাম জুয়েলারি মালিক সমিতির সভাপতি মৃণাল কান্তি ধর বলেন, বৈধভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়ায় সরকার-ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হয়েছেন। আর সেই সোনা বৈধভাবেই দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদেশফেরত যাত্রীরা যেসব সোনার বার নিয়ে আসছেন, তা সাধারণত ২৪ ক্যারেটের। এই সোনার বারের ৯৯.৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ। ২২ ক্যারেট (৯১.৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ) ও ২১ ক্যারেটে (৮৭.৫০ শতাংশ বিশুদ্ধ) স্বর্ণালংকার হয়ে থাকে।

তবে একাধিক সোনা ব্যবসায়ী বলেছেন, এসব সোনা কেনার সময় তাঁরা বৈধতার কাগজ তেমন দেখেন না, তাঁরা দেখেন সোনা যেখান থেকে কেনা হয়েছে সেই রসিদে কত ক্যারেট লেখা আছে তা।

সম্পর্কিত খবর