খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে আইজিসি
সম্প্রতি খাদ্যশস্যের মাসভিত্তিক বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি)। এর পরও চলতি মৌসুমে উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করবে। মৌসুম শেষে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২২৮ কোটি ১০ লাখ টনে। ফেব্রুয়ারি গ্রেইন মার্কেট রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়।
আইজিসি বলছে, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোয় বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে চলতি মৌসুমে খাদ্যশস্য উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে মৌসুম শেষে এসব অঞ্চলে ভুট্টা উৎপাদন অস্বাভাবিক কমে যেতে পারে। এছাড়া সরঘাম (এক ধরনের শস্য) ও গম উৎপাদনেও নিম্নমুখিতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জানুয়ারিতে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় বৈশ্বিক উৎপাদন কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে আইজিসি।
মাসভিত্তিক উৎপাদন কমলেও এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন ৩ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমলেও তাতে ভারসাম্য আনছে মৌসুমজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী থাকা ভুট্টা, গম ও সরঘাম উৎপাদন।
এদিকে চলতি মৌসুমে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে খাদ্যশস্যের ব্যবহারও। বিশেষ করে পশুখাদ্য উৎপাদনে খাদ্যশস্যের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। মৌসুম শেষে ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে ২২৮ কোটি ৬০ লাখ টনে, যা আগের বিপণন মৌসুমের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি।
তবে ২০২১-২২ মৌসুমে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইজিসির প্রাক্কলন বলছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪২ কোটি ৪০ লাখ টনে। আগের মৌসুমের তুলনায় বাণিজ্য ১ শতাংশ কমতে পারে। বাণিজ্য নিম্নমুখী হয়ে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে চীন। বিশ্বের শীর্ষ ভোক্তা দেশটির ভুট্টা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
শুধু চলতি মৌসুমই নয়, আগামী মৌসুমের সরবরাহ ও চাহিদা নিয়েও প্রক্ষেপণ করেছে আইজিসি। গত মাসে সংস্থাটি জানায়, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে গমের বৈশ্বিক উৎপাদন ও ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করবে। চলতি মাসে ওই পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আইজিসির প্রাথমিক প্রক্ষেপণে দেখা গেছে, আগামী মৌসুমে ভুট্টা ও যবের আবাদ চলতি মৌসুমের তুলনায় কিছুটা কমার আশঙ্কা রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরেই লাতিন আমেরিকার দেশগুলো খরা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদনে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এ অঞ্চলের সয়াবিন উৎপাদন পরিস্থিতি বৈশ্বিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আইজিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সয়াবিনের বৈশ্বিক উৎপাদন আরো কমে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। গত মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন কমবে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো তেলবীজটির ব্যবহারও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী মৌসুমে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করছে আইজিসি। সংস্থাটির প্রাথমিক প্রক্ষেপণ বলছে, এক বছরের ব্যবধানে সয়াবিনের আবাদ ২ শতাংশ বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় সর্বাধিক আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে।
আইজিসির পূর্বাভাস বলছে, ২০২১-২২ মৌসুমে চালের বৈশ্বিক উৎপাদন আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ১০ লাখ টন কমতে পারে। মৌসুম শেষে মোট উৎপাদন দাঁড়াবে ৫১ কোটি টনে। যদিও এটি আগের মৌসুমের তুলনায় বেশি। নতুন পূর্বাভাসে কৃষিপণ্যটির রফতানি ২০ লাখ টন কমিয়ে আনা হয়েছে। মৌসুম শেষে রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮ কোটি ১০ লাখ টনে।



