কমেছে থাই ও ভারতীয় চালের দাম অপরিবর্তিত ভিয়েতনামের
চলতি সপ্তাহে থাইল্যান্ডের রফতানি চালের দাম কমে চার বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের চাপে কৃষিপণ্যটির দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভারতে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো চালের দাম কমেছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে ভিয়েতনামের চালের দাম। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
চলতি সপ্তাহে ভারতের ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ জাতের চাল রফতানি হয়েছে ৩৫৯-৩৬৪ ডলারে। এটি ৩০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে এ জাতের চালের দাম ছিল ৩৬৪-৩৬৯ ডলার।
খাদ্যপণ্য ও কৃষিবাণিজ্য কোম্পানি ওলাম ইন্টারন্যাশনালের চাল বাণিজ্য বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিতিন গুপ্ত বলেন, আগামী মাসে নতুন ধান উঠলে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে। এমন প্রত্যাশায় চালের চাহিদা কমেছে।
বাংলাদেশের কৃষকরা জানান, ডিজেলের দাম বাড়ায় চালের উৎপাদন ব্যয় ৩০ শতাংশেরও বেশি বাড়তে পারে। ফলে দেশের বাজারেও দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত সপ্তাহে দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ২৩ শতাংশ বেড়ে যায়। এটি পরিবহন ব্যয় ২৭ শতাংশ বাড়িয়েছে।
এদিকে থাইল্যান্ডে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম কমে টনপ্রতি ৩৭৭-৩৮৩ ডলারে নেমেছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরের পর এটি সর্বনিম্ন দাম। গত সপ্তাহে প্রতি টন চালের দাম ছিল ৩৮২-৩৮৪ ডলার।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে থাইল্যান্ডের চাল রফতানি বড় পরিসরে বাড়তে পারে। দেশটির মুদ্রার বিনিময়মূল্য কমে যাওয়ায় চালের দামও কমেছে। ফলে বিশ্ববাজারে থাই চালের কদর বেড়েছে। এটি বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধিতেও জ্বালানি জোগাচ্ছে।
থাইল্যান্ডের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক কিরিতি রুশচানো জানান, চলতি বছরের জুন মাস থেকেই দেশটির চাল রফতানি বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাল কিনছে চীন, ফিলিপাইন, ক্যামেরুন, মালয়েশিয়া, মোজাম্বিক ও সিঙ্গাপুর। তিনি আরো বলেন, শেষ প্রান্তিকের প্রতি মাসে ৭ লাখ টন করে চাল রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রফতানির পাশাপাশি চালের উৎপাদন ও সরবরাহও বাড়ছে।
ব্যাংককভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, রফতানি বাড়লেও চলতি বছরের বেশির ভাগ সময়ই স্থানীয় বাজারে চাল সরবরাহে আধিক্য ছিল। এ কারণে দাম কমছে। অন্যদিকে বছরের শেষ দিকে নতুন চাল উঠলে সরবরাহ আরো বাড়বে। ফলে দাম আরো কমতে পারে।
এদিকে ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি টন চাল লেনদেন হয়েছে ৪৩০-৪৩৫ ডলারে। হো চি মিন সিটিভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, ভিয়েতনামের বাজারে নতুন ধানের সরবরাহ কমছে। এটি হয়তো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী চাপের মুখে ফেলতে পারে। আগামী বছর ফসল সংগ্রহ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এ সংকট অব্যাহত থাকবে।
দেশটির শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, গত মাসে ভিয়েতনাম ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৬২ টন চাল রফতানি করেছে। আগের মাসের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। তবে বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশটির চাল রফতানি কমেছে। মোট রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ লাখ ৮০ হাজার টনে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কম।


