শিরোনাম
icon যমুনা ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক icon ডিএসইতে ব্যাংক খাতের দাপট, দর বেড়েছে ১৫ কোম্পানির icon ইউরোপে নতুন শুল্ক, চাপে চীনা ই-কমার্স icon মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা, আন্দোলন নয় icon বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার কোটি টাকা icon ঢাকায় বাস রুটে বড় পরিবর্তন icon মালয়েশিয়াগামীদের মেডিকেল ফি ৮ হাজার icon ২০৩০ পর্যন্ত কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ icon কোন বোর্ডে পাসের হার কত? icon সোনার দামে বড় পতন icon এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ icon কৃষিঋণ মওকুফে চাঙা গ্রামীণ অর্থনীতি icon এইচএসসির ফল প্রকাশ আজ, জানবেন যেভাবে icon সংঘাত দীর্ঘ হলে বাড়বে মূল্যস্ফীতি icon কমলা শাড়িতে মোহনীয় পরীমনি icon ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩, হাসপাতালে ভর্তি ১,২৬২ icon বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা icon পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু icon রূপপুরে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু icon কমলো সোনার দাম icon এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ল ৩ বছর icon শীতের সবজি বাজারে, বিপাকে ক্রেতারা icon নভেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম icon ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল জয়ী icon স্বাস্থ্যবীমার দাবি পরিশোধ করল বেঙ্গল ইসলামী লাইফ
down of head

ইউরোপে নতুন শুল্ক, চাপে চীনা ই-কমার্স

কম দামের পোশাক আমদানিতে শুল্ক ও হ্যান্ডলিং ফি আরোপের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে পরিবর্তন আসছে। এতে চীনভিত্তিক অনলাইন বিক্রেতাদের প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে অতি কম দামের পোশাক ও অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে চীন থেকে ইউরোপে কম মূল্যের ই-কমার্স পণ্যের আকাশপথে পরিবহনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এই পরিবর্তনকে শুধু বিক্রি কমে যাওয়ার ফল হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, শুল্ক এড়াতে অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্য পরিবহনের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন করে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ গুদাম ব্যবহার করতে পারে।

বিমান পরিবহনবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়ানের তথ্যের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীন থেকে কম মূল্যের ই-কমার্স পণ্যের আকাশপথে পরিবহনের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

এই পতনের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন শুল্কনীতি। গত ১ জুলাই থেকে কম মূল্যের আমদানিপণ্যের ওপর ৩ ইউরো শুল্ক আরোপ করেছে ইইউ। পার্সেল প্রতি পণ্যের শ্রেণি বা ক্যাটাগরি অনুযায়ী এই শুল্ক প্রযোজ্য হচ্ছে। এই ব্যবস্থা আপাতত অস্থায়ী এবং ২০২৮ সালের জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।

এর পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২ ইউরো হ্যান্ডলিং ফি আরোপের সিদ্ধান্ত রয়েছে ইইউর।

নতুন এই শুল্ক ও ফি ইউরোপের বাজারে অতি কম দামের পণ্য বিক্রির ব্যবসায়িক মডেলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে যে-সব প্রতিষ্ঠান কারখানা থেকে সরাসরি ভোক্তার কাছে ৫ ইউরোর টপস কিংবা ১০ ইউরোর পোশাক পাঠিয়ে থাকে, তাদের জন্য অতিরিক্ত নির্দিষ্ট অঙ্কের শুল্ক উল্লেখযোগ্য ব্যয় বাড়াবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৫ ইউরোর একটি পণ্যের ওপর ৩ ইউরো শুল্ক যুক্ত হলে শুধু শুল্কের কারণেই পণ্যের দামে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটতে পারে, যদি পুরো ব্যয়টি ক্রেতার ওপর চাপানো হয়। একাধিক পণ্য একসঙ্গে অর্ডার করলে ক্রেতারা এই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব কিছুটা কমাতে পারেন। তবে এত দিন যে প্রায় শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে এসব প্ল্যাটফর্ম ইউরোপের বাজারে অত্যন্ত কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে পারত, নতুন নীতির ফলে সেই সুবিধা আর আগের মতো থাকছে না।

বদলে যাচ্ছে পণ্য সরবরাহের কৌশল

নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের সরবরাহব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে। পার্সেল ধরে ধরে চীন থেকে পণ্য পাঠানোর পরিবর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে গুদাম স্থাপন করে সেখানে বিপুল পরিমাণ পণ্য একসঙ্গে পাঠানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। পরে ওই গুদাম থেকে স্থানীয়ভাবে ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব।

এ পদ্ধতিতে প্রতিটি ছোট পার্সেলের বিপরীতে আরোপিত ব্যয়ের চাপ অনেকটাই এড়ানো বা কমানো সম্ভব হতে পারে। ফলে সেপ্টেম্বরে চীন থেকে ইউরোপে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে সমপরিমাণ বিক্রি কমে গেছে। এর একটি অংশ সরবরাহের পথ পরিবর্তনের ফলও হতে পারে।

তবে নতুন শুল্কনীতির কারণে ইউরোপের বাজারে কম মূল্যের আমদানিপণ্যের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ব্যয় বাড়ছে—এটি স্পষ্ট। এত দিন কম মূল্যের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যে শুল্ক সুবিধা চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাড়তি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিত, নতুন ব্যবস্থায় সেই ব্যবধান কমে আসছে।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য কী বার্তা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পোশাক রপ্তানির প্রধান পদ্ধতি হলো ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় চালানে পণ্য সরবরাহ। চীনের অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মতো লাখ লাখ ছোট পার্সেলে সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য পাঠানো বাংলাদেশের প্রচলিত রপ্তানি মডেল নয়।

তাই নতুন শুল্কনীতির সরাসরি লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রচলিত তৈরি পোশাক রপ্তানি নয়। তবে ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতার ধরন পরিবর্তিত হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের ক্রেতারা যদি শুধু সর্বনিম্ন দামকে প্রাধান্য না দিয়ে পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা, মান, বিধিবিধান মেনে উৎপাদন এবং সামগ্রিক মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাহলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করছে। ফলে পণ্যের মান, সময়মতো সরবরাহ, উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় বিধিবিধান অনুসরণ এবং ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তি রপ্তানি নিশ্চিত করবে না। ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পণ্যের মান, উৎপাদন দক্ষতা, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

সব মিলিয়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন শুল্কনীতি অতি কম দামের পণ্যনির্ভর ই-কমার্স ব্যবসার প্রচলিত হিসাব বদলে দিচ্ছে। এর ফলে চীনভিত্তিক অনলাইন বিক্রেতাদের সরবরাহব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মতো প্রচলিত পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য মূল্য, মান ও নির্ভরযোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর