আট মাসের সর্বোচ্চে বৈশ্বিক এলএনজি রফতানি

বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহূত জ্বালানির ৩৮ শতাংশই কয়লা। তবে কার্বন নিঃসরণ রোধে বিশ্বনেতারা এখন কয়লার ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। ফলে তুলনামূলক কম পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে কদর বাড়ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি)। অন্যদিকে এশিয়াজুড়ে তীব্র কয়লা সংকটও এলএনজির বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে। এসব কারণে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে পণ্যটির বৈশ্বিক রফতানি।

জ্বালানি পণ্যের বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সা সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি বছরের নভেম্বরে বৈশ্বিক এলএনজি রফতানি বেড়ে আট মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। মার্চের পর সবচেয়ে গতিশীলও ছিল রফতানি। বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক কাতারের রফতানি কমে গেলেও তাতে ভারসাম্য এনেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ান উৎপাদন।

এ বছরের অক্টোবরে বৈশ্বিক এলএনজি রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ২৬ লাখ টন। নভেম্বরে তা বেড়ে ৩ কোটি ২৮ লাখ টনে পৌঁছেছে। গত বছরের নভেম্বরের তুলনায়ও রফতানি বেড়েছে। ওই সময় বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ১৮ লাখ টন এলএনজি রফতানি করা হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে সবচেয়ে দ্রুত ৩ কোটি ৩২ লাখ টন এলএনজি রফতানি হয়েছিল। গত মাসে দ্বিতীয়বারের মতো সবচেয়ে দ্রুত রফতানির ঘটনা ঘটে।

ভরটেক্সার প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এলএনজির গড় রফতানি প্রতি মাসে ৩ কোটি ১০ লাখ টনের ওপরে ছিল। কিন্তু তৃতীয় প্রান্তিকে তা গড়ে ৩ কোটি টনে নেমে যায়। অক্টোবরে আবারো রফতানিতে উল্লম্ফন দেখা দেয়।

নভেম্বরে সুয়েজ খালের পূর্বাংশে অবস্থিত কেন্দ্রগুলো থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ২ কোটি ৮ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। অক্টোবরে সরবরাহের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টন। এছাড়া গত বছরের নভেম্বরের তুলনায়ও সরবরাহ বেড়েছে। ওই সময় অঞ্চলটি থেকে সরবরাহ করা হয় ১ কোটি ৯৯ লাখ টন। অন্যদিকে সুয়েজ খালের পশ্চিমাঞ্চলে এলএনজি উৎপাদন বেড়ে ১ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছেছে। অক্টোবরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার টন। গত বছরের একই সময় উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টন।

জ্বালানি পণ্যটির রফতানি প্রসারে প্রধান ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি বেড়ে ৬০ লাখ ৯০ হাজার টনে পৌঁছেছে। অক্টোবরে দেশটির রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৯ লাখ টন। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার রফতানি দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫০ হাজার টনে। অক্টোবরে দেশটি রফতানি করেছিল ১৭ লাখ ৭০ হাজার টন।

বিপরীতে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক দেশ কাতার পিছিয়ে পড়েছে। নভেম্বরে দেশটির এলএনজি রফতানি ৬৬ লাখ টন থেকে কমে ৬০ লাখ টনে নেমেছে। এমনকি চলতি বছরজুড়েই দেশটির রফতানি ছিল গত বছরের তুলনায় নিম্নমুখী। জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত দেশটি প্রতি মাসে গড়ে ৬৪ লাখ টন এলএনজি রফতানি করে। গত বছরের একই সময় গড় রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৬ লাখ টন।

স্ট্যাটিস্টার তথ্য বলছে, চলতি বছর এলএনজি রফতানিতে শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যদিও নভেম্বরে দেশটির এলএনজি উৎপাদন কমে ৭২ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমেছে। অক্টোবরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭২ লাখ ৫০ হাজার টন। মূলত রফতানি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে উৎপাদনে নিম্নমুখিতা দেখা দেয়। এ কারণে কমে যায় রফতানিও।

এদিকে নভেম্বরে উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার সম্মিলিত রফতানি বেড়ে ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টনে পৌঁছেছে। অক্টোবরে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৬ লাখ ১০ হাজার টন। অঞ্চল দুটির রফতানি বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও বিষুবীয় গিনির ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন।

সম্পর্কিত খবর