আইপিওর টাকায় ঋণ পরিশোধ করতে চায় এসএস স্টিল
২০১৯ সালে দেশের পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করে এসএস স্টিল লিমিটেড। আইপিওর অর্থে যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় এবং স্থাপন, ভবন নির্মাণ ও আইপিও খরচ বাবদ ব্যয় করার কথা ছিল। তবে আইপিওর অর্থ ব্যয় পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে বর্তমানে ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে চায় কোম্পানিটি। সম্প্রতি কোম্পানিটির পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এসএস স্টিলের আইপিওর প্রসপেক্টাস অনুসারে, যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় এবং স্থাপন বাবদ ২১ কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। এর মধ্যে কোম্পানিটি আইপিও তহবিল থেকে এ বাবদ ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয় করেছে। আর বাকি অর্থ কোম্পানির অন্যান্য উৎস থেকে ব্যয় করা হয়েছে। এরই মধ্যে কারখানায় যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হবে। নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের ফলে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৮৬ হাজার ৪০০ টনে। বিদ্যমান বাজারদর অনুসারে বার্ষিক আয় বাড়বে ৬৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া ভবন নির্মাণ বাবদ ১ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আইপিও প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ ২ কোটি ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা এরই মধ্যে ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।
যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় এবং স্থাপন বাবদ অব্যবহূত ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ৭২ হাজার ১৭৬ টাকা কোম্পানিটি এবি ব্যাংকের কাছ থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে চায়। এ ঋণের বিপরীতে সুদ ৯ শতাংশ। ঋণ পরিশোধ করা হলে সুদ বাবদ কোম্পানির ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং এতে এর শেয়ারহোল্ডাররা উপকৃত হবেন বলে মনে করছে কোম্পানিটি। আইপিওর তহবিল ব্যয় পরিকল্পনায় পরিবর্তনের বিষয়টি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করা হবে।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) এসএস স্টিলের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ১৩ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৬৩ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৬৯ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২২ শেষে পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৭১ পয়সায়।


