হাইকোর্টের রায়ে ডেল্টা লাইফের পর্ষদ পুনর্বহাল
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কর্তৃক বরখাস্ত করা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ আবারো কোম্পানিটির দায়িত্ব নিয়েছে। কোম্পানিটিতে আইডিআরএর নিয়োগ করা প্রশাসক নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির পর্ষদ পুনর্বহাল করা হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি খসরুজ্জামান ও মো. মাহমুদ হাসানের যৌথ বেঞ্চ গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আইডিআরএ কর্তৃক ডেল্টা লাইফে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কোম্পানিটির বরখাস্তকৃত পর্ষদের দায়ের করা রিটকে অকাট্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোম্পানিটিতে প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের কারণে এখন থেকে প্রশাসক তার পদ হারিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটির বরখাস্ত হওয়া পর্ষদ আবারো তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেল্টা লাইফের পরিচালক জেয়াদ রহমান বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে আমরা গতকাল পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এরই মধ্যে পর্ষদের একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাধারণ বীমা পলিসি গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে কোম্পানিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় আইডিআরএ। সেদিন বিকালেই পুলিশের সহায়তায় কোম্পানিটির কার্যালয়ে গিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেয়ার চার মাসের মধ্যেই তার ওপর আস্থা হারিয়ে ডেল্টা লাইফের পরামর্শকের দায়িত্বে থাকা সাবেক যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল ইসলামকে কোম্পানিটির নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। দায়িত্ব নেয়ার চার মাসের মাথায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনিও পদত্যাগ করেন। তার জায়গায় আইডিআরএর সাবেক সদস্য মো. কুদ্দুস খানকে সর্বশেষ কোম্পানিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে আইডিআরএ কর্তৃক প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করে কোম্পানিটির পর্ষদ। পাশাপাশি কোম্পানিটির পক্ষ থেকে আইডিআরএর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ করা হয়, যা বর্তমানে দুদক অনুসন্ধান করে দেখছে। অন্যদিকে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও কোম্পানিটির পর্ষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাছাড়া এরই মধ্যে কোম্পানিটির ওপর আইডিআরএর পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি বিশেষ ও অনুসন্ধানমূলক নিরীক্ষা করানো হয়েছে এবং এতে বেশকিছু অনিয়মও উঠে এসেছে। বিএসইসিও কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষা করেছে। তার ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকেও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ করা হয়েছে। সর্বশেষ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইডিআরএ ও ডেল্টা লাইফের পর্ষদের চলমান বিবাদ দূর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ ইস্যুতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি বৈঠকও হয়েছে।


