ফ্রান্সে গম উৎপাদন কমার পূর্বাভাস
ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় গম উৎপাদক দেশ ফ্রান্স। ইউরোপে শস্যটির চাহিদার সিংহভাগই পূরণ করে দেশটি। কিন্তু এ বছর দেশটিতে গম উৎপাদন কমার পূর্বাভাস মিলেছে। মূলত খরা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় দেশটিতে গমের আবাদ ব্যাহত হওয়ার কারণে উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে ফ্রান্সএগ্রিমার।
গম উৎপাদন মৌসুমের প্রথম পূর্বাভাসে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চলতি বছর দেশটিতে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৫ হাজার টন গম উৎপাদন হতে পারে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন কমবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
এ মাসের শুরুতে ফ্রান্সএগ্রিমারের প্রাক্কলনে দেখা যায়, এ বছর শীত ও বসন্তকালী যব উৎপাদনও কমবে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কম।
প্রতি বছর জুনের শুরুতেই ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে গম উত্তোলন শুরু হয়। কিন্তু এ বছর শস্যটির ফলন ভালো হয়নি। বেশির ভাগ অঞ্চলেই তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্সের কৃষকরা এখন পর্যন্ত ১৪ শতাংশ গম উত্তোলন করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই বিশ্ববাজারে গমের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কারণ রুশ সেনারা কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর অবরোধ করে রাখায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম উৎপাদক দেশ ইউক্রেন উৎপাদিত গম রফতানি করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের আমদানিকারক দেশগুলো ফ্রান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু দেশটিতে উৎপাদন কমে গেলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে পড়বে।


